৬ ফেব্রুয়ারি : কাউকে জোর করে মাতৃত্ব চাপানো যাবে না। ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেউ যদি অন্তঃসত্ত্বা হন তাহলে তার কাছে মা হওয়া বা না হওয়ার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত থাকবে। মা হতেই হবে, এমনটা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। শুক্রবার একটি মামলায় স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট।
রায় শুনিয়েছেন বিচারপতি বিভি নাগরথনা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ।
রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মেয়েটি যখন গর্ভবতী হয় তখন সে নাবালিকা ছিল এবং ঘটনাটি একটি সম্পর্কের পরিণতি। সেই সম্পর্ক ‘সম্মতিমূলক হোক বা না-হোক’, গুরুত্বপূর্ণ হল—মেয়েটি সন্তানের জন্ম দিতে চায় না। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘শেষ পর্যন্ত দেখা দরকার নাবালিকা মেয়েটির অধিকার। এই গর্ভধারণ সরাসরি অবৈধ, কারণ সে নাবালিকা এবং দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ওই সম্পর্কের কারণে।’
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেয়েটির গর্ভপাতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে মুম্বইয়ের জেজে হাসপাতালে। সমস্ত মেডিক্যাল প্রোটোকল কঠোরভাবে মানার কথাও বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
এই মামলায় আদালত জানায়, ‘মায়ের প্রজনন স্বাধীনতা সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে।’ কোনও মহিলাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে মাতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া বিচারব্যবস্থার কাজ নয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘আদালত কোনও মহিলাকে তার গর্ভধারণ শেষ করতে বাধ্য করতে পারে না, যদি তিনি তাতে সম্মত না হন। আবেদনকারী তাই গর্ভপাত করাতে পারেন।’
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারীকে লিখিতভাবে গর্ভপাতের সম্মতি জানিয়ে হাসপাতালকে গোটা বিষয়টি বলতে হবে।
রায়ের পর আইনি মহলে স্পষ্ট বার্তা, মহিলা, বিশেষ করে নাবালিকার শরীর ও মাতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র তারই। আদালত সেই অধিকারকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে।



