বরাক তরঙ্গ, ৫ ফেব্রুয়ারি : আর্যভট্ট বিজ্ঞান কেন্দ্র লালা ব্লকের উদ্যোগে হাইলাকান্দি জেলার বোয়ালিপারের এক্সটেনশন ট্রেনিং সেন্টার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক দিবসীয় এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিল ‘বর্জ্য কাগজ থেকে কলম তৈরি করা’। আসাম বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিদ্যা এবং পরিবেশ পরিষদের সৌজন্যে এবং শিক্ষা বিভাগের সহযোগিতায় হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন সরকারি এমই হাই এবং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ৮০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মশালায় দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরপি শশাঙ্ক দাস, প্রেমলোচন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষক ইবজাল আহমদ মজুমদার, নিমার আলি হাইস্কুলের শিক্ষিকা বিজয়িনী ভট্টাচার্য এবং আইনুল হক মজুমদার প্রমুখ। এই প্রশিক্ষণে কীভাবে বর্জ্য কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করা যায়, তা হাতে কলমে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরকে শিখিয়ে দেওয়া হয়। এই কর্মশালায় উপস্থিত থাকা প্রত্যেক প্রশিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রত্যেকেই কর্মশালাতে কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করেন। এছাড়া ও এদিন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইলাকান্দি আসাম বিজ্ঞান সমিতির হাইলাকান্দি জেলা শাখার সম্পাদক তথা এসএস কলেজের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. দেবাশিস গুহ ঠাকুরতা।
তিনি পাওয়ার পয়েণ্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে বর্জ্য পদার্থ থেকে জিনিস তৈরি করতে পারে এর উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন প্রকারের কঠিন বর্জ্য পদার্থকে কিভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সভায় তিনি একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এর ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এই কর্মশালার উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইলাকান্দি বিজ্ঞান মন্দিরের আধিকারিক বাহারুল ইসলাম লস্কর। তিনি প্রশিক্ষার্থীদের একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের যথাযথ ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেন এবং এগুলি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রিক তৈরীর পরামর্শ ও দেন।

এদিকে, উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আর্যাভট্ট বিজ্ঞান কেন্দ্রের হাইলাকান্দির জেলা সমন্বয়ক লুৎফুর রহমান বড়ভূইয়া, অসসাম সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিদ্যা এবং পরিবেশ পরিষদের এই কর্মসূচির বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের অবহিত করেন। তিনি বিদ্যালয়ে থাকা প্রতিটি ইকো ক্লাবকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রশিক্ষণের শেষে সব শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।



