বিরোধী ঐক্যের সামনে পর্যুদস্ত: লোকসভায় ভাষণ দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি

৪ ফেব্রুয়ারি : বিরোধী দলের তীব্র বিক্ষোভের কারণে বারবার অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাব আজ বাতিল করতে হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর জবাব ছাড়াই রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবটি পাশ হতে পারে। নিম্নকক্ষে চলমান অচলাবস্থার জেরে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে অনেকটাই কমে গিয়েছে।

বুধবার বিকাল ৫টায় লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মঙ্গলবারই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভাষণ বাতিল করে দেন লোকসভার স্পিকার। একটি বই নিয়ে বিতর্কে অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাঁর ভাষণ বাতিল করে দেওয়ার দাবি করেছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার এই নিয়ে লোকসভায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিরোধী দলের সাংসদরা। এর ফলে ৭ কংগ্রেস সাংসদ ও এক সিপিআইএম সাংসদকে লোকসভার বাজেট অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড (suspend) করে দেওয়া হয়।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি ভয়েই ভাষণ দিতে পিছিয়ে এসেছেন। তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন, সরকার তাঁকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃত করতে দেয়নি, কারণ তারা ভয়ে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতেও বাধা দিচ্ছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ২০২০ সালের চিন সীমান্ত সংকটে কীভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে একা ফেলে রেখেছিল, তা প্রকাশ করে একটি বই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দেবেন। তাঁর এক্স পোস্ট অনুযায়ী এই প্রসঙ্গে উল্লেখ ছিল: “আজ যদি প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসেন, আমি তাঁকে একটি বই দেব। এই বইটি কোনও বিরোধী নেতার নয়। এই বইটি কোনও বিদেশি লেখকেরও নয়। দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানের লেখা এই বই, অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মতে, এর কোনও অস্তিত্বই নেই।”

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তিনি এই বিষয়ে চিঠিও লিখেছিলেন। একই দিনে শীতকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য আটজন বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *