মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২ ফেব্রুয়ারি : পাথারকান্দি শিক্ষাখণ্ডের অন্তর্গত খাগরাবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের লালতিনবুল বিদ্যামন্দির মধ্য ইংরেজি স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আকবর আলিকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হল। সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় সম্মাননা প্রদান করে। যদিও সরকারি নিয়মানুসারে তিনি চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি শিক্ষকতার মহান পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন, তবে সরকারি ছুটি থাকায় ৩০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সহকর্মী শিক্ষক মইনুল ইসলামের হাতে দায়িত্বভার অর্পণ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লঙ্গাই ক্লাস্টারের সিআরসিসি জয়নুল হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানের শুরুতেই কচিকাঁচা পড়ুয়াদের পরিবেশনায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরপুর সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা গোটা পরিবেশকে আবেগে আপ্লুত করে তোলে। প্রিয় শিক্ষক আকবর আলির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর চোখেই জল চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা সভাকক্ষ এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়, যেখানে উপস্থিত প্রায় সকলের চোখেই অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।পরবর্তী পর্যায়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমন্ত্রিত শিক্ষক মণ্ডলী ও বক্তারা আকবর আলিকে একাধারে একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ প্রশাসক ও সমাজসেবী হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে তিনি আজীবন নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই লালতিনবুল বিদ্যামন্দিরে শৈক্ষিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।বক্তারা আরও জানান, আকবর আলির নেতৃত্বেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে হাইস্কুলে উন্নীত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একে হায়ার সেকেন্ডারি স্তরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে তিনি অবসর গ্রহণের পরেও নিরন্তর তদ্বির চালিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।উল্লেখযোগ্য যে, শিক্ষক আকবর আলি ১৯৯২ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন বর্তমান শ্রীভূমি জেলার ব্রাহ্মণশাসন এমভি স্কুলে শিক্ষকতার মহান পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি ইচাবিল এমই স্কুলে প্রথমে সহকারী শিক্ষক এবং পরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করেন। কর্মজীবনের অন্তিম পর্যায়ে তিনি লালতিনবুল বিদ্যামন্দিরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। অবশেষে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তিনি এই বিদ্যালয় থেকেই অবসর গ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদায়ী শিক্ষক আকবর আলি আবেগে বারবার কণ্ঠরোধ হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি নিয়মে আজ অবসর গ্রহণ করলাম ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে শিক্ষকতার এই মহান সেবা থেকে নিজেকে কখনোই আলাদা রাখতে পারবো না’। শিক্ষকতার সঙ্গে আমার যেন নাড়ির টান জড়িয়ে গেছে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতেও এই বিদ্যালয় তথা বৃহত্তর এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে তিনি শতভাগ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। এর আগে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে তাঁর হাতে স্মারক, পুরস্কার সামগ্রী ও মানপত্র তুলে দিয়ে তাঁকে সংবর্ধিত করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ মালাকার, খাগরাবাজার জিপির সভানেত্রী ভানসনজয় চরেই, প্রধান শিক্ষক দেবজ্যোতি দাস, বিমল কান্তি সিনহা, জিয়াউর রহমান, মুজাক্কির হোসেন, আব্দুর রহিম, আলি আহমেদ, অরিজিত সিংহ, আহমেদ আলি প্রমুখ। স্থানীয় বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিরেন্দ্র দাস, দুলু দাস, স্বপন দাস, নিলিমা দাস, রঞ্জিত দাস, অমলেন্দু দাস, আব্দুল খালিক সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই স্মরণীয় বিদায়ী সংবর্ধনা সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



