মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ জানুয়ারি : লোক উৎসব হলো কোনো জনপদ বা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আনন্দঘন উৎসব। যুগ যুগ ধরে লোকগীতি, লোকনৃত্য, মেলা, কারুশিল্প এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে এসব উৎসব পালিত হয়, যা সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। বাংলার প্রেক্ষাপটে , পৌষ সংক্রান্তি, বাউল গান, ও নানা ভাষা গোষ্ঠীর লোক মেলা এর অন্যতম উদাহরণ, যা সাধারণ মানুষের আনন্দের ধারা লোক উৎসবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ : ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: লোক উৎসবের মূলে থাকে প্রাচীন।ঐতিহ্য, লোককাহিনী, লোকশিল্প, লোকক্রীড়া, লোকচিকিৎসা ও লোকজ ভঙ্গ। কৃষি ও প্রকৃতি গ্রামীণ সমাজের কৃষিকাজ ও প্রকৃতির পরিবর্তনের (যেমন-ঋতু পরিবর্তন) সাথে লোক উৎসবের গভীর সম্পর্ক থাকে, যেমন-লোক উৎসব সামাজিক ঐকবদ্ধতা: এটি বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণী ও পেশার মানুষকে একজোট করে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর করে। আনন্দ ও উৎসব: লোকজ গান, নৃত্য, ভোজ ও মেলা লোক উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রজন্মের ধারা লোক উৎসবের বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানগুলো প্রথাগতভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। পৌষ সংক্রান্তি শীতের পিঠা উৎসব: পৌষ মাসের শেষে পালিত। হালখাতা: বাংলা নববর্ষের ব্যবসায়িক উৎসব। মেলা যেমন- বৈশাখী মেলা, চড়ক মেলা। বাউল গান ও লোকনৃত্য: গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য লোক উৎসব হলো সাধারণ মানুষের প্রাণের উৎসব, যা সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সজীব রাখে।
শ্রীভূমি লোকসংস্কৃতি মঞ্চের উদ্যোগে আগামী ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি শ্রীভূমিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দশম দ্বি-বার্ষিক লোকসংস্কৃতি সম্মেলন ও লোক উৎসব। দু’দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বিপিনচন্দ্র পাল স্মৃতি ভবন ও বিবেকানন্দ কলেজ চত্বরে।শনিবার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অনুষ্ঠান বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন সকালে শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করা হবে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থা অংশ গ্রহণ করবে।এছাড়া বরাক সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের লোক সংস্কৃতির উপরে কয়েকটি টেবলো থাকবে।এছাড়া লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন নৃত্য পরিবেশিত হবে।এরপর পর্যায়ক্রমে স্মৃতিমঞ্চ উদ্বোধন, সাহিত্য আলোচনা সভা, শিশুমেলা, লোকনৃত্য ও লোকগানের আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় থাকবে প্রদর্শনী ও লোকমেলা।
৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সারাদিনব্যাপী লোকসংস্কৃতিমূলক অনুষ্ঠান চলবে। দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে প্রকাশ্য অধিবেশন ও স্মরণিকা উন্মোচন। এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এছাড়াও বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ, বিধায়ক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিত্বরা।প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক ড. বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী। দু’দিনব্যাপী এই লোক উৎসবে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের অংশগ্রহণে লোকনৃত্য, লোকগান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে লোকসংস্কৃতির বিকাশে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য তিনটি মঞ্চ তৈরি করা হবে। রঞ্জিতকুমার পুরকায়স্থ স্মৃতিমঞ্চ হবে বিএড কলেজ প্রাঙ্গণে, বিপিন চন্দ্র পাল ভবনের প্রেক্ষাগৃহে হবে ধীরেন্দ্র লাল রায় স্মৃতি মঞ্চ এবং এখানেই করুণা শঙ্কর ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য ও আলোচনা মঞ্চ নামের আরেকটি মঞ্চ হবে।এই দুদিনের উৎসবে বরাক উপত্যকার সাহিত্য সংস্কৃতি ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
এছাড়া একটি স্মরণিকাও উন্মোচন করা হবে।উৎসব কে সফল করে তুলতে একটি অভ্যথর্না কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার সভাপতি জগদীশ চন্দ্র বণিক ও সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অরূপরতন দাস। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সুবীরবরণ রায়, সম্পাদক রথীরঞ্জন শর্মা, রঞ্জিতকুমার দেব, নিশিকান্ত ভট্টাচার্য, রণধীর রায়, মঞ্জুশ্রী চক্রবর্তী, বিপুল চৌধুরী, ড.নির্মল কুমার সরকার, সুব্রত চৌধুরী, ঝর্ণা ভট্টাচার্য, অরূপ রায় প্রমুখ।



