৩১ জানুয়ারি : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি কোলটান খনি ধসে ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হতাহতদের মধ্যে খনিশ্রমিক ছাড়াও নারী ও শিশুরা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
দুর্ঘটনাটি উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় অবস্থিত একটি খনিতে ঘটে। প্রদেশটির বিদ্রোহীসমর্থিত প্রশাসনের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খনিটি প্রাদেশিক রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার খনির ভেতরে কাজ চলাকালীন আকস্মিক ভূমিধসে বড় অংশ ধসে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মুইসা জানান, খনির ভেতরে শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের বাজার এলাকায় থাকা নারী ও শিশুরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অনেকেই গুরুতর আহত। অন্তত ২০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে বর্ষাকাল চলায় মাটি নরম ও অস্থিতিশীল হয়ে আছে। এ কারণেই খনি ধসের ঝুঁকি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা খনির ভেতরে থাকা অবস্থাতেই মাটি ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়োজিত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। তবু প্রাণহানির মাত্রা ‘অনেক বেশি’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাদেশিক প্রশাসনের এক উপদেষ্টা রয়টার্সকে বলেন, মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছে। দুর্গম এলাকা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং খনির অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে উদ্ধার ও তথ্য সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র : রয়টার্স, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



