ডিব্রুগড়ে নির্বাচনী সুর চড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বরাক তরঙ্গ, ৩০ জানুয়ারি : ডিব্রুগড়ের খনিকর মাঠে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা অসমের দরিদ্র মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের জন্মভূমিকেও ছাড়েনি বলে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার আয়োজিত জনসভায় অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। দশকের পর দশক ধরে অসম যে অনুপ্রবেশ সমস্যায় ভুগছে, তার জন্য কংগ্রেসকেই দায়ী করেন তিনি। তবে বর্তমান সময়ে অসমের জনবিন্যাস পরিবর্তনের চক্রান্ত রুখতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডিব্রুগড়ের বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়ে তিনি অসমবাসীকে সতর্ক করে বলেন, সরকার ও জনগণ একসঙ্গে পরিকল্পিত জনবিন্যাস পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভবিষ্যতে অসম ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে।

কংগ্রেস আমলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অসমের সীমান্ত কার্যত খোলা ছিল বলে দাবি করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এবং অসমে প্রথমে সর্বানন্দ সোনোয়াল ও বর্তমানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। অসম-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুধু অনুপ্রবেশ বন্ধ করাই নয়, ২০২৬ সালে পুনরায় বিজেপি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, পূর্বে যারা বাংলাদেশ থেকে অসমে এসেছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। বিজেপি সরকার বেছে বেছে প্রতিটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বহিষ্কার করবে বলে দাবি করেন তিনি। অসমের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে পুনরায় বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জনসভায় উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অসম সরকারের পক্ষ থেকে অসমের স্বাভিমান গামোছা, ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী গামোছা, অসমের তাই ফাকে সম্প্রদায়ের হস্তশিল্প, আহোম যুদ্ধের গৌরব ও বীরত্বের প্রতীক হেংদাং (ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র) এবং একটি আরনাই উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ভাষণ শুরু করে অমিত শাহ ডিব্রুগড়কে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং ডিব্রুগড়ের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *