২৯ জানুয়ারি : গান আলোচনা কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে কলকাতায় প্রকাশিত হোল বিপ্লব চক্রবর্তীর লেখা উনিশ পয়সার সিনেমা’ উপন্যাসটি। সুপর্ণা দত্তের সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সারস্বত্ত মুখ তৈরি হয়। মঞ্চে উপবিষ্ট গুণীজনদের হাত দিয়ে ‘উনিশ পয়সার সিনেমা’ উপন্যাসটির মোড়ক খুলে প্রকাশ করেন সাহিত্যিক সৈয়দ হাসমত জালাল।
বিপ্লব চক্রবর্তীর লেখালেখি নিয়ে অনুষ্ঠানের সুর বেধে দেন কবি ও সম্পাদক মিতা দাস পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, বরাকের নতুন দিগন্ত পত্রিকায় এই উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবার সময় নতুন নতুন পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে বলেই উপন্যাসটি দু মলাটে গ্রন্থিত করার ইচ্ছে জাগে। নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি উদ্বাস্তু পরিবারের অসহায়তার ছবি তিনি ইতিহাসকে স্মরণ রেখেই তুলে ধরেছেন। অথ-পথ পত্রিকার সম্পাদক সাধন চন্দ্র চন্দ নাতি দীর্ঘ ভাষনে বাংলা ভাষার ক্রমবিবর্তনের সঙ্গে মঙ্গলকাব্য এবং মনসামঙ্গলের উদাহরণ টেনে বিপ্লব চক্রবর্তীর লেখালেখির সাযুজ্য এবং উপন্যাসের বিষয়ের প্রতি শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র শরৎচন্দ্র এবং সমসাময়িক সাহিত্য নিয়ে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন।
বৌদ্ধিক মঞ্চের সভাপতি ডাঃ নৃসিংহমুরারি দে বলেন, বিপ্লবের লেখায় অফবিট বিষয়গুলো বারবার নতুন নতুন আঙ্গিক নিয়ে উঠে আসে। আমি বিপ্লবের যে কয়টি গল্প এবং উপন্যাস পড়েছি তাতে আমি মুগ্ধ। উনিশে মে পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, বিপ্লবের কবিতা পড়েছি। কয়েকটি গল্প পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। বিপ্লবের লেখা সহজ এবং সরল। বিপ্লব লেখায় অহেতুক জটিলবাক্য ব্যবহার করে না। যে বিষয়ের উপর উপন্যাসটি লেখা হয়েছে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে আমার। অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট সাহিত্যব্রতি এবং সম্পাদক সৈয়দ হাসমত জালাল বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতিসত্ত্বার ওপরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন। অসমে বাংলা ভাষা চর্চার মুদ্রিত সংখ্যার উদাহরণ তুলে মুল্যবান বক্তব্যও তুলে ধরেন। মিতা দাস পুরকায়স্থের বাংলা ভাষার ওপরে প্রকাশনা করাকে বৈপ্লবিক বলে অভিনন্দিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন দেবশ্রী দে এবং দিশা চট্টোপাধ্যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল বৌদ্ধিক মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত প্রকাশনী। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মিতা দাস পুরকায়স্থ ।



