মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থা সভাপতির দায়িত্ব ভার গ্রহণ করতেই শ্রীভূমিতে ক্রিকেট উৎসবের সূচনা হচ্ছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা সাংবাদিক সম্মেলনে করে জানিয়ে দিলেন সুচি। এতে শ্রীভূমিতে ক্রিকেটের ঢাক বাজনা ভাজলো শুরু হচ্ছে এপিসি ও অফিস লিগ মরশুম ২৯ জানুয়ারি এপিসি ক্রিকেটে মরশুমের সূচনা, ফেব্রুয়ারিতে অনিল কৃষ্ণ বণিক–রিনারানি বণিক স্মৃতি টি-২০ অফিস লিগ; অংশ নিচ্ছে বহু ক্লাব ও ডিপার্টমেন্ট দল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে চলেছে শ্রীভূমি জেলার চলতি বছরের বহুল প্রতীক্ষিত ক্রিকেট মরশুম। শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে মরশুমের সূচনা হচ্ছে অসম প্রিমিয়ার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ (এপিসি ক্রিকেট) টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। আগামী ২৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, মূলত নভেম্বর মাসেই এই ক্রিকেট মরশুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জিসিএম-সহ একাধিক প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সূচি পিছিয়ে যায়। এই বিলম্বের জন্য ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব আশীষ দাস পুরকায়স্থ বলেন,বিভিন্ন অনিবার্য সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে মরশুম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে সকলের সহযোগিতায় এবার একটি সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় ক্রিকেট মরশুম উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এপিসি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে জেলা সদরের মোট আটটি নামী ক্লাব অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শক সকলেই মুখিয়ে রয়েছেন মাঠের লড়াই উপভোগ করতে।এদিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা আরও জানান, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অনিল কৃষ্ণ বণিক ও রিনা রাণী বণিক স্মৃতি ইন্টার ডিপার্টমেন্ট কাম ইন্টার অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিগত দুই বছর এই প্রতিযোগিতা জয়শ্রী দাসের স্মৃতিতে অনুষ্ঠিত হলেও, দাতা পরিবার বর্তমানে জেলা সদরে উপস্থিত না থাকায় এ বছর সেই আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।এই টি-২০ ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি দলকে ২৫ হাজার টাকা এন্ট্রি ফি প্রদান করতে হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এন্ট্রি ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় শুধুমাত্র জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্বীকৃতপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন।টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে খেলোয়াড় অকশন প্রক্রিয়া। প্রতিটি দল সর্বাধিক ছয়জন খেলোয়াড় অকশনের মাধ্যমে দলে নিতে পারবে। এই অকশন অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কনফারেন্স হলে। তবে ম্যাচের টিম ইলেভেনে সর্বাধিক চারজন অকশন প্লেয়ার খেলানোর অনুমতি থাকবে। গেস্ট প্লেয়ার রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ জানুয়ারি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা আরও জানান, ন্যূনতম ২৪টি ডিপার্টমেন্ট দল এই অফিস লিগে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সংস্থার বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সব পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব ও উৎসাহে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী এবারের অফিস লিগ হবে বিগত বছরের তুলনায় আরও বড়, সুশৃঙ্খল ও সফল।সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৩৫ থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। আশা করা হচ্ছে, মোট খেলোয়াড় সংখ্যা ১৫০ ছুঁতে পারে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৩৫। এদিকে, দাতা পরিবারের সদস্য ও জেলা বিজেপির সভাপতি সজীব বণিক বলেন, বিগত বছর রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নতুন এজিএম সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।তিনি আরও জানান, বিগত দিনে অনিল কৃষ্ণ বণিক ও রিনারানি বণিক স্মৃতি টি-২০ ম্যাচগুলি অফিস লিগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবছরের অফিস লিগও তাঁদের প্রয়াত পিতা-মাতার স্মৃতিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।শেষে সকল অংশগ্রহণকারী দল, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিলেমিশে, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে এই অফিস লিগকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলাই আমাদের সকলের দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, এবারের অফিস লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ও খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় প্রাইজমানি ও ঝলমলে ট্রফির ব্যবস্থা, যা প্রতিযোগিতাকে আরও জমজমাট করে তুলবে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।



