মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : লোয়াইরপোয়া ব্লকের রাধাপ্যারী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব পেঁচারঘাট গ্রাম বর্তমানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় আবেশে মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও পূর্ব পেঁচারঘাট এলপি স্কুল প্রাঙ্গণে সুশৃঙ্খল ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভূবনমঙ্গল অষ্টপ্রহর শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্তন। এই উপলক্ষে গ্রামবাসীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২৬ জানুয়ারি, সোমবার শুভ অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে এই পবিত্র হরিনাম সংকীর্তনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরদিন মঙ্গলবার দিনভর ও রাতব্যাপী অহোরাত্র নামকীর্তনে ভক্তরা হরিনামের সুধারসে মগ্ন থাকেন।
এদিন দুপুরে উপস্থিত ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। বুধবার ভোরে ভক্তদের অংশগ্রহণে নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পূর্ণ কীর্তনের মাধ্যমে হরিনাম সংকীর্তনের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর মহন্ত বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অষ্টপ্রহরব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটবে।
এই মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কীর্তনীয়া দল হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন ধর্মনগর থেকে সজল তালুকদার ও তাঁর সম্প্রদায়, ঝনিক দেবনাথ ও তাঁর সম্প্রদায়, বরুয়াকান্দি থেকে শঙ্কর দাস ও তাঁর সম্প্রদায় এবং শিলচর সাধু সংঘ সম্প্রদায়। তাঁদের সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত হরিনাম সংকীর্তনে পুরো এলাকা এক অনাবিল ভক্তিময় পরিবেশে ভরে উঠেছে। ভূবনমঙ্গল অষ্টপ্রহর শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্তনকে কেন্দ্র করে পূর্ব পেঁচারঘাট গ্রামসহ সমগ্র অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক আবহ। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়, কীর্তনের ধ্বনি ও ধর্মীয় উচ্ছ্বাসে এই কয়েকদিন পূর্ব পেঁচারঘাট গ্রাম যেন এক পুণ্যতীর্থে পরিণত হয়েছে।



