২৪ জানুয়ারি : ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের বান্দুং অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এটি সাম্প্রতিককালের একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোহ, যা দেশটির পূর্ববর্তী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
দুর্ঘটনাটি পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের একটি গ্রামে ঘটে। প্রায় সপ্তাহব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় ঘরবাড়ি ও মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা আগে থেকেই চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল।
দেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি)-এর মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানিয়েছেন, “নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি; আমরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজকে আরও ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছি।” তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মাটির স্তূপের কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস.কম জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা শুক্রবার থেকে পশ্চিম জাভা প্রদেশে জারি করা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই দুর্ঘটনা জাভা দ্বীপে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ভূমিধস। গত নভেম্বরের ১৩ তারিখে সিবেউনিয়িং গ্রামে ভারী বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছিল। এছাড়া, কয়েক সপ্তাহ আগে পশ্চিমাঞ্চলে ঘটে যাওয়া বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ১,০০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো ইন্দোনেশিয়ার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করছে।



