নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনাদর্শ অনুসরণে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান
মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ জানুয়ারি : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১৩০তম জন্মজয়ন্তী তথা পরাক্রম দিবস উপলক্ষে বাজারিছড়ার কালাছড়া নেতাজি সংঘের উদ্যোগে অত্যন্ত সাড়ম্বরে ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিনটি পালন করা হয়।প্রতি বছরের ন্যায় এদিন সকালে কালাছড়া নেতাজিপল্লীস্থিত নেতাজি সংঘের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। নেতাজির আদর্শ ও দেশপ্রেমমূলক স্লোগানে মুখরিত হয়ে গোটা এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।শোভাযাত্রা শেষে বাজারিছড়া তেমাথায় অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্থায়ী প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান, প্রদীপ প্রজ্বলন ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। প্রথমে নেতাজির পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করেন নেতাজি সংঘের বর্তমান সভাপতি প্রমেশ দাস ও প্রাক্তন সভাপতি মনিষ ভূষণ পাল।
পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে মাল্যদান করেন নেতাজি সংঘের সাধারণ সম্পাদক অমিত দেব, বাজারিছড়া অটো রিকশা মালিক সংস্থার পক্ষে দুলন দেব ও শেলু পাল, স্থানীয় ই-রিকশা সংস্থার সভাপতি মনোজ নাগ, নেতাজি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেবপ্রিয় নাগ, বর্তমান সহ-সভাপতি অলক দে প্রমুখ।এছাড়াও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন নেতাজি সংঘের প্রাক্তন সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাপ্পাদিত্য দেবরায়, জন্মজিৎ দাস, সত্যম দে, অজয় সূত্রধর, রাজু দেবরায়, বাজারিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সহ-সভাপতি তথা নেতাজি সংঘের উপদেষ্টা সদস্য রজত নাগ, সহ-সম্পাদক রতন চক্রবর্তী, পম্পু নাগ, শুভম রায়, শুভ্র পাল, পার্থসারথি নাগ, ভূবন সূত্রধর, দেবজিত দাস, বাজারিছড়া বাজার কমিটির পক্ষে মিটন রায়, কালাছড়া বাজার কমিটির পক্ষে দেবু দে সহ আরও অনেকে। পরে স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নেতাজি সংঘের প্রাক্তন সভাপতি অমিতাভ দে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। এরপর সমবেতভাবে প্রদত্ত স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে ওঠে। নেতাজি অমর রহে হায়রে সুভাষ, কোথায় গেলি—মায়ের কোলে ফিরে আয় ২৩শে জানুয়ারি নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালন করুন বীর বাঙালির বীর সন্তান নেতাজি সুভাষ জিন্দাবাদ বীরেরা কখনও মরে না, অবুঝেরা তা বোঝে না এমন আবেগঘন স্লোগানে চারদিক প্রকম্পিত হয়।

এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় নেতাজির বর্ণময় জীবন, সংগ্রাম ও আদর্শ নিয়ে আলোকপাত করেন মনিষ ভূষণ পাল, অমিতাভ দে সহ অন্যান্য বক্তারা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান আজও এক রহস্যময় অধ্যায়। এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি এই মর্মে তাঁরা সরকারের নিকট জোরালো দাবি জানান।একই সঙ্গে বক্তারা যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নেতাজির জীবনাদর্শ অনুসরণ করেই একটি শক্তিশালী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। যুবকরাই সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি তাই তাঁদের সুসংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন নেতাজি সংঘের কার্যালয়ে সরস্বতী পূজাও অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সম্পাদক অমিত দেব জানান, এই সরস্বতী পূজার মধ্য দিয়েই জেলার অন্যতম এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পথচলা শুরু হয়েছিল। জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংঘটনের শিরোপা অর্জনকারী এই সংস্থা আজও তার ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রতি বছর সরস্বতী পূজার আয়োজন করে আসছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতা করার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।



