শ্রীভূমিতে বরাক উৎসবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সমন্বয় ও ঐকের বার্তা

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ জানুয়ারি : মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করে শ্রীভূমিতে বরাক উৎসব ২০২৬ এর সুচনা করলেন প্রাক্তন সাংসদ মিশনরঞ্জন দাস। বরাক উৎসবের উদযাপন কমিটির সভাপতি অসিত দত্তের পৌরহিত্য সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীভূমি পুরসভার পূরপতি রবীন্দ্রচন্দ্র দেব বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভাতৃত্ব ও সংহতি হলো বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন, যেখানে বিভিন্ন জনজাতি ও সংস্কৃতি মিলেমিশে এক সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। তিনি আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, এই উৎসবে শুধু সাংস্কৃতিক নয় পরিবেশ কে সুরক্ষার বার্তা দিয়ে প্রতিজন অতিথিকে গাছের চারা তুলে দিচ্ছেন যা প্রশংসার যোগ্য। সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে প্রধান আচার্য অঞ্জন গোস্বামী বলেন, বরাক উৎসবের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো এই ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং সংহতি র‍্যালি গুলি আঞ্চলিক ঐক্যের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। এই অনুষ্টানে উওর পূর্বাঞ্চলের অনেক রাজ্যের প্রতিনিধি হিসাবে শিল্পীদের অংশ নেওয়ার ফলে এক বৈচিত্র্যের রূপ নিয়েছে। রবীন্দ্র সদন মহিলা মহা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. শর্মিষ্ঠা খাজাঞ্চি বলেন বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য: উত্তর-পূর্ব ভারত মানেই অসংখ্য ভাষা, সংস্কৃতি ও জনজাতির মিলনক্ষেত্র। তাদের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা ভারতের অখণ্ডতার প্রতীক। বিশিষ্ট নাট্য শিল্পী তথা পাথারকান্দির সমাজকর্মী সিদ্ধার্থ শেখর পাল চৌধুরী বলেন, সাংস্কৃতিক সংহতি: বরাক উৎসব, বিভিন্ন নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যকে উদযাপন করে এবং একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে। সংহতি র‍্যালি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে সংহতি র‍্যালির মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োজক কমিটির পক্ষে উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরী বলেন এই ভ্রাতৃত্ববোধ কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেও সাহায্য করে। এই ভ্রাতৃত্ববোধ হলো এই অঞ্চলের শক্তির মূল উৎস, যা সব ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একতা বজায় রাখে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।

সভায় মুখ্য অতিথি মিশনরঞ্জন দাস বলেন, উওর পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়ে ভ্রাতৃত্ব উন্নয়নে শিল্প সংস্কৃতির মেল বন্ধনের বার্তায়। এতো জনগোষ্ঠী এত বৈচিত্র কোথাও দেখা যায় না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি উত্তর পূর্বাঞ্চল। বিশ্বসেরা এই অঞ্চলে আজ পর্যটনের কেন্দ্রে বিন্দু। ভারতের নানা রাজ্যের মানুষ এখন বিদেশে না গিয়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যের প্রাকৃতিক দর্শন করছেন। বৃহস্পতিবার শ্রীভূমির সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে বরাক উৎসব ২০২৬ এর সূচনা পর্বে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন মূখ্য অতিথি মিশন বাবু বলেন একমাত্র শিল্প সাংস্কৃতি পারে মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ব নিয়ে আসতে। “সাতবোনের “এই উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীর, ভাষা ও শিল্প -সাংস্কৃতির আদান প্রদানে গড়ে ওঠা সমন্বয়ের সম্পর্ক কে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে, বরাক উৎসব। তিনি এই উৎসবে আয়োজনের জন্য কেআরসি ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। আগামীদিনে আরও বড় আকারে এই উৎসব পালন করা হোক। সভায় অন্যান্য দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রীভূমি এসসি বোর্ডের সভাপতি কৃষ্ণ দাস, উৎসব উদযাপন কমিটির
কার্যকরি সভাপতি ডাঃ পৌলম চন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির পক্ষে অমর কৃষ্ণ সাহা ও মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, অতিথিদের উত্তরীয় সম্মান স্মারক ও গাছের চারা উপহার হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেন। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনায় খুশি সাংস্কৃতিক সংস্থা,
একক সংগীত দিবাঙ্গ শিল্পী শুভশ্রী নাথ, সুস্মিতা চক্রবর্তী.বন্দনা দাস, ঋততপা চক্রবর্তী,অতিথি শিল্পী  বাপ্পি দাস। দলীয়  সংগীত পরিবেশন সমন্বয় সংগীত বিদ্যালয়.সপ্তসুর সাংস্কৃতিক সংস্থা, একক নৃত্য, কাঞ্চনা রায় (দিবাঙ্গ শিল্পী ) ধামাইল নাচ পরিবেশনায় গীতবিতান সঙ্গীত বিদ্যালয় .মনিপুরী নাচ পরিবেশনায় আদর্শ বিদ্যালয় বৈঠাখাল, পাথারকান্দি  হজাগরী নৃত্য পরিবেশনায় যোগাসন ট্রেনিং সেন্টার শ্রীভূমি ঝুমুর নাচ পরিবেশনায় বিশ্ব বীনা সাংস্কৃতিক সংস্থা, বাম্বু নাচ পরিবেশনায় নূপুর নৃত্যালয়, বিহু নাচ পরিবেশনায় নৃত্যশ্রী কলানিকেতন, বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রীভূমি লোকসংগীত কলা কেন্দ্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রাবণী পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *