গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরাক্রম দিবস উদযাপিত

বরাক তরঙ্গ, ২৩ জানুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১৩০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পরাক্রম দিবস উদযাপিত হয়। আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নেতাজির দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, আইকিউএসির ডিরেক্টর ড. কৃষ্ণচন্দ্র দাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. স্বরূপা ভট্টাচার্য। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপিকা ও পড়ুয়ারা। বিশিষ্টজনদের দ্বারা প্রদীপ প্রজ্বলন ও নেতাজির প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধান ডঃ স্বরূপা ভট্টাচার্য।

উল্লেখ্য, আজ দিনটি ছিল সরস্বতী পূজা, অর্থাৎ বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনার দিন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কারাবন্দি থাকাকালীনও সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছিলেন। ১৯২৪ সালে বহরমপুর জেলে বন্দি অবস্থায় তিনি দৃঢ় সংকল্প ও অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে সরস্বতী পূজার আয়োজন করতে সম্মত করান। এই ঘটনা নেতাজির সাংস্কৃতিক চেতনা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও অটল ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও স্মরণীয়। উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন এক অনন্য দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবী নেতা, যাঁর আদর্শ, সাহস ও আত্মত্যাগ আজও আমাদের প্রেরণার উৎস। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির অবদান ছিল অসামান্য ও বহুমাত্রিক। তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালে আন্দামানে তিনিই প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি আরও বলেন, নেতাজির জীবন ও কর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়া দেবদত্ত চৌধুরী, লুবাব আহমদ খান, হর্ষিকা দাস ও দেবোপম রায়। তাঁরা নেতাজির আদর্শ, নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা দাস ও শবনম লস্কর আলেহী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *