মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জানুয়ারি : শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের ১৩৮তম শুভ জন্ম মহামহোৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক উৎসবে মুখর হয়ে উঠতে চলেছে উত্তর ত্রিপুরার বাজারিছড়া। পরম পূজ্যপাদ শ্রীশ্রী আচার্যদেবের আশীর্বাদে ও পূজ্যপাদ শ্রীশ্রী অবিন দাদার ঐশী প্রেরণায় আয়োজিত “শ্রেয়-দীপনা” উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যেই ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের ১৩৮তম শুভ জন্ম মহামহোৎসব উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২৫শে জানুয়ারি, রবিবার উত্তর ত্রিপুরার বাজারিছড়া এলাকার কালাছড়া হসপিট্যাল রোডে এক দিনব্যাপী বিশাল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাজারিছড়া উপাসনা কেন্দ্র ও সৎসঙ্গ নামঘর বালিপিপলার সহযোগিতায় এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হবে একটি সুসজ্জিত অস্থায়ী মণ্ডপে।
ইতিমধ্যেই উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। অস্থায়ী প্যান্ডেল ও মন্দির নির্মাণে শিল্পীদের নিপুণ কারুকার্য চোখে পড়ার মতো। নান্দনিক রঙ, ধর্মীয় মোটিফ ও নরম আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে প্যান্ডেল চত্বর। উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা কালাছড়া হসপিট্যাল রোড এলাকা বর্তমানে বাহারি সাজ ও রকমারি আলোর ঝলকানিতে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে সেজে উঠেছে।এই বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আর মাত্র হাতে গোনা দু’দিন বাকি। ফলে বর্তমানে প্রস্তুতি নিয়ে চরম ব্যস্ততায় রয়েছেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে প্যান্ডেল ও অনুষ্ঠানস্থলকে চূড়ান্ত রূপ দিতে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন দক্ষ শিল্পীরা। এরই ফাঁকে স্থানীয় সৎসঙ্গী গুরুভ্রাতারা সাংবাদিকদের জানান, লোয়াইরপোয়া ব্লক ভিত্তিক এই মহোৎসবকে ঘিরে স্থানীয় ইষ্টানুরাগী ভাই-বোনদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পরম দয়ালের আবির্ভাব তিথি পালনের মাধ্যমে সকলে ইষ্ট আরাধনায় ব্রতী হতে চান।।উৎসবের দিন ভোর থেকেই শুরু হবে ধর্মীয় আচার ওমাঙ্গলিক অনুষ্ঠান।
কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী ব্রাহ্মমুহূর্তে অনুষ্ঠিত হবে বেদ মাঙ্গলিক ও নহবৎ। প্রত্যুষে উষাকীর্তনের মাধ্যমে পরিবেশিত হবে ভক্তিমূলক সঙ্গীত। সকাল ৬টা ৭ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে বিনতি প্রার্থনা। সকাল ৭টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। এরপর সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে মনোমুগ্ধকর মণিপুরি ব্যান্ড প্রদর্শন। সকাল ৯টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আঞ্চলিক দাদা ও মায়েদের দ্বারা পরিবেশিত হবে সঙ্গীতানুষ্ঠান ও ইষ্টালোচনা। পুনরায় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২ ঘটিকা পর্যন্ত মণিপুরি ব্যান্ড প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।দুপুর ১২ ঘটিকা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দাদা ও মায়েদের পরিবেশনায় চলবে সঙ্গীতানুষ্ঠান, ইষ্টালোচনা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন। নৃত্য পরিবেশনায় থাকবে মণিপুরি নৃত্য, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি নৃত্য, ঝুমুর নৃত্যসহ একাধিক লোক ও শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী।
বিকাল ৪টা ৪৭ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা বিনতি প্রার্থনা। এরপর সমগ্র অনুষ্ঠানস্থল আলোকসজ্জায় এক অনুপম রূপ ধারণ করবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পাশ্ববর্তী রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলা থেকে আগত সৎসঙ্গীদের বিশেষ ব্যান্ড মিউজিকেল কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, যা উৎসবে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। এদিন মধ্যাহ্নে আগত ভক্তদের জন্য আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের অনুমান, এই মহোৎসবে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি ভক্ত সমাগম হতে পারে।এই মহোৎসবকে সার্থক করে তুলতে বৃহত্তর পাথারকান্দি কেন্দ্রের সকল ধর্মপ্রাণ সনাতনী ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজক ও পরিচালন সমিতির সদস্যরা।



