কার্বি আংলঙে নির্মীয়মাণ কুয়ায় আটকে তিন শ্রমিকের মৃত্যু

বরাক তরঙ্গ, ২১ জানুয়ারি : কার্বি আংলং জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে নির্মীয়মাণ কুয়ায় আটকে পড়ে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ, দিফু শহরের নিকটবর্তী দিসামা এলাকার সালেম তিসো গ্রামে। কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের (KAAC) যুগ্ম সচিব তেনজিং রংপির বাড়িতে একটি গভীর কুয়া খননের কাজ চলাকালীন ওই তিন শ্রমিক কুয়ার ভিতরে আটকে পড়েন। ডিফু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোসেফ কেইভোম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে কুয়ার ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস বা অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে শ্রমিকদের দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুয়ার ভিতরে জমে থাকা প্রাকৃতিক বা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই তারা আটকে পড়েন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” মৃত শ্রমিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে তিসং তেরাং (২০), হরি তেরন (৩৫) ও লংসোদার তেরাং (২৫) হিসেবে। পুলিশ জানিয়েছে, কুয়াটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট।

জোসেফ কেইভোম আরও জানান, প্রথমে এক শ্রমিক কুয়ার ভিতরে আটকে পড়েন। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে পরপর আরও দুই শ্রমিক নিচে নামেন, কিন্তু তারাও একই পরিস্থিতির শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খননকাজ চলাকালীন তিনজন দৈনিক মজুর একে একে কুয়ার ভিতরে নামেন এবং কিছুক্ষণ পর আর সাড়া দেননি। তারা বেরিয়ে না আসায় ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিকরা চিৎকার শুরু করেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিকাল আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-কে জানানো হয়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুয়া থেকে দেহ উদ্ধার করে, তবে ততক্ষণে তিনজনেরই মৃত্যু হয়ে যায় বলে আধিকারিকরা জানান।
মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য ডিফু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গভীর কুয়ার ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে, যা শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বিশেষত যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকে। এই ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণ এবং কাজের সময় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *