বিজেপিকে নয়, ইউডিএফকে উৎখাত করতেই মরিয়া কংগ্রেস : প্রতিক্রিয়া শাহাদত আহমদ চৌধুরীর

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জানুয়ারি : এআইইউডিএফ বিধায়ক হাফিজ রফিকুল ইসলামের কংগ্রেস বিজেপিকে নয়, ইউডিএফকে উৎখাত করতে চায় মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় করিমগঞ্জ  কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল ইউডিএফকে উৎখাত করতে চায় শুধু কংগ্রেস নয়, চায় অসমের সচেতন জনগণ। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করে দিয়েছে, ইউডিএফের রাজনীতি আজ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং তাদের ভোট কার্যত বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে উঠেছে এমন অভিযোগ কংগ্রেস নেতৃত্বের বিজেপিকে নয়, ইউডিএফকে উৎখাত করতে চায় কংগ্রেস এআইইউডিএফ বিধায়ক হাফিজ রফিকুল ইসলামের এই মন্তব্যকে ঘিরে অসমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে এআইইউডিএফ দলকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলেছেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী।সাময়িক প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদককে দেওয়া এক দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অসমের রাজনীতিতে এক নির্মম বাস্তবতাকে নগ্ন করে দিয়েছে। ধর্মের আবরণে বিভ্রান্তির রাজনীতি আর কাজ করছে না। জনগণ এখন হিসাব কষে ভোট দিচ্ছে—আর সেই রায়ে ধসে পড়েছে এআইইউডিএফের তথাকথিত ভোটব্যাঙ্ক। “বিজেপির পরোক্ষ সহায়ক হিসেবে কাজ করাই ইউডিএফের আসল পরিচয় এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে এআইইউডিএফকে সরাসরি নিশানা করলেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী এআই ইউ ডিএফ অসমের রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর কিন্তু অস্বীকার্য সত্যকে সামনে এনে দিয়েছে। অসমের প্রায় প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে এআইইউডিএফ দলের কর্মী ও সমর্থকদের ভোট কার্যত বিজেপির অনুকূলে গিয়ে পড়েছিল।তিনি আরও বলেন,এই বাস্তবতারই সরাসরি ফল এআইইউডিএফ দলের সুপ্রিমো মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল সাহেবকে ইতিহাসের রেকর্ড ব্যবধানে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে কংগ্রেসের আইকন ও সংগ্রামী নেতা রাকিবুল হোসেন সাহেবের কাছে। এই পরাজয় কেবল একজন নেতার নয়, বরং ভ্রান্ত রাজনীতির চূড়ান্ত ব্যর্থতা। শাহাদত আহমদের মতে, অসমের জনগণ এখন আর আগের মতো অন্ধ নয়। “আজ মানুষ সজাগ, সচেতন। তারা আবেগে নয়, যাচাই–বাছাই করে, হিসাব কষে ভোট দেন। ধর্মের স্লোগান, কৃত্রিম কান্না আর বিভ্রান্তিকর সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে জনগণ আর ভুলতে রাজি নয় সাফ জানিয়ে দেন তিনি

এআইইউডিএফের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “অসমে যদি এআইইউডিএফ দলের জন্মই না হতো, তবে কিছু অশিক্ষিত, অযোগ্য ও সমাজে গ্রহণযোগ্যতাহীন ব্যক্তির কখনোই বিধায়ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো না। নিজাম উদ্দিন, জাকির হোসেন, সুজাম উদ্দিন, করিম উদ্দিন বড় ভূঁইয়ার মতো মানুষরা কখনোই জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারতেন না।তার অভিযোগ, এআইইউডিএফ ধর্মের আবরণে সাম্প্রদায়িক তাস খেলে দলীয় মনোনয়ন বিলিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তিকে রাজনীতির মঞ্চে তুলে এনেছে। “যাদের সমাজে কোনো শিকড় ছিল না, ছিল না জনসংযোগ, ছিল না জনসেবার ইতিহাস তাদের দিয়েই রাজনীতি করানো হয়েছে,” বলেন তিনি। এর পরিণতি হিসেবে আজ রাজ্য প্রকৃত জনদরদী, শিক্ষিত ও দূরদর্শী সংখ্যালঘু নেতৃত্বের অভাবে দিশেহারা বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এআইইউডিএফের সুপ্রিমো প্রকৃত শিক্ষিত ও জনভিত্তিসম্পন্ন নেতাদের জন্য কী অপেক্ষা করে রেখেছিলেন? কেন তাঁদের কখনো সামনে আনা হলো না? কেন বরাবরই অযোগ্যদের দিয়ে রাজনীতি করানো হলো?বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সংখ্যালঘুদের কংগ্রেসবিমুখ হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, এই ধরনের দাবি বাস্তবতা বিবর্জিত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থিত্ব চেয়ে যে অসংখ্য ভাষিক সংখ্যালঘু নেতা আবেদন করেছেন, সেই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করবে জনগণ কার পাশে আছে। তিনি আরও বলেন, “যে দলের কোনো সুস্পষ্ট নীতি নেই, আদর্শ নেই, সাংগঠনিক নেতৃত্ব নেই এবং পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা রয়েছে—সেই দল কখনোই দীর্ঘদিন জনগণের মধ্যে টিকে থাকতে পারে না। শুধুমাত্র কংগ্রেসকে দোষারোপ করে রাজনৈতিক বাজারে টিকে থাকা যায় না।এআইইউডিএফের ২০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে তিনি প্রশ্ন করেন, এই ২০ বছরে জনগণের জন্য আপনারা কী করেছেন? কোনো শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছেন? কোনো ঐতিহাসিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন? মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যখন বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে, তখন আপনারা বিধানসভায় নীরব ছিলেন। কেন আপনাদের কণ্ঠ শোনা যায়নি? জনগণ সব দেখেছে, সব বুঝেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দিনে সংখ্যালঘু এলাকায় গিয়ে মায়াকান্না আর রাতে বিজেপির সাথে গোপন মিত্রতাএই দ্বিচারিতা আর চলবে না। মানুষ আজ সব জানে।এই কারণেই কংগ্রেস নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ, এআইইউডিএফের জোট প্রস্তাব পত্রপাঠে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন শাহাদত আহমদ চৌধুরী। কারণ কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না,বলেন তিনি।শেষে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে এআইইউডিএফ দলকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে যে দল জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার পরিণতি অবশ্যম্ভাবী।শাদত বাবুর কথায় জনগণ জেগে উঠেছে।অসম জেগে উঠেছে।আর এই জাগরণের নেতৃত্ব দেবে কংগ্রেস।শেষে কোনো রাখঢাক না রেখেই শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, “অসমের জনগণ আজ আর বোকা নয়। ধর্মের নামে প্রতারণা, সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে রাজনীতি আর চলবে না।তাঁর ভাষায়, এআইইউডিএফ যে আদতে বিজেপির বি-টিম হিসেবে কাজ করেছে, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলই তার চূড়ান্ত প্রমাণ।তিনি বলেন দিনে সংখ্যালঘুদের চোখে জল এনে সহানুভূতির নাটক, আর রাতে ক্ষমতার লোভে বিজেপির সাথে দরকষাকষি এই দ্বিচারিতার রাজনীতি অসম আর সহ্য করবে না।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই নির্বাচন হবে বিশ্বাসঘাতক বনাম সংগ্রামের লড়াই।শাহাদত আহমদের কণ্ঠে তীব্র প্রত্যয় যে দল জনগণের ভোটকে ঢাল বানিয়ে বিজেপিকে শক্তিশালী করেছে, তাদের রাজনৈতিক পরিসমাপ্তির সময় এসে গেছে। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে জনগণই এআইইউডিএফকে ইতিহাসের পাতায় ঠেলে দেবে।

তিনি বলেন, “এই লড়াই ক্ষমতার নয়, এই লড়াই আত্মসম্মানের। অসমের মাটি সাক্ষী থাকবে ধর্মের নামে রাজনীতি করে যারা জনগণের ভবিষ্যৎ বিক্রি করেছে, তাদের জন্য এই রাজ্যে আর কোনো জায়গা থাকবে না। শেষে বজ্রকণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করেন জনগণ জেগে উঠেছে।অসম জেগে উঠেছে। আর এই জাগরণ থামবে না যতক্ষণ না ভণ্ডামির রাজনীতির সম্পূর্ণ অবসান হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *