মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জানুয়ারি : পাথারকান্দি বিধানসভার অন্তর্গত বাজারিছড়ার কালাছড়া নেতাজিপল্লী সর্বজনীন কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল এক পরম ভক্তিময় তীর্থক্ষেত্রে। পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ত, মীন ও পশুপালন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের উদ্যোগে এবং বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার গৌরভক্তদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় কালাছড়া নেতাজিপল্লী সর্বজনীন কালীবাড়ি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হল ষোলো প্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্তন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীভূমি নিলামবাজারের রাজ গোস্বামী সম্প্রদায়ের পরিচালনায় অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে এই মহতী ধর্মানুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরবর্তী শুক্রবার ও শনিবার দিন-রাত অবিরাম হরিনাম সংকীর্তন চলতে থাকে। এতে ত্রিপুরার যোগপ্রিয়া সম্প্রদায়, বংশীধারী সম্প্রদায়, ঠাকুরবাণী সম্প্রদায় এবং আসাইঘাটের অপু বৈদ্য সম্প্রদায় একের পর এক মনোমুগ্ধকর কীর্তন পরিবেশন করেন। প্রতিটি পরিবেশনাই ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ভক্ত শ্রোতারা গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধাভরে হরিনামের অমৃতধারা শ্রবণ করেন। টানা দুই দিনব্যাপী এই নামসংকীর্তনের প্রভাবে কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ যেন এক মুহূর্তের জন্য বৃন্দাবন ধামে রূপান্তরিত হয়। কীর্তনের প্রতিটি প্রহরে ভক্তি, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।
এই কীর্তন সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কীর্তন কমিটির কর্মকর্তারা জানান, বৃহত্তর পাথারকান্দি, লোয়াইরপোয়া, বাজারিছড়া, ইচাবিল প্রভৃতি এলাকার ধর্মপ্রাণ সনাতনী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মতে, অধিবাস থেকে পূর্ণা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গৌরভক্তের সমাগম ঘটে এবং সকলেই মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন।
কীর্তনে উপস্থিত ছিলেন বারইগ্রাম রাধারমণ আশ্রমের বৈষ্ণব বাবাজি রসরাজ বাবাজি ও সনাতন বাবাজি। এবছর কীর্তন কমিটির পক্ষ থেকে কালীবাড়ি কমিটির সভাপতি অজয় সূত্রধরকে ‘রঘুনন্দন’-এর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, যা ছিল তাঁর জন্য এক বিশেষ সম্মান।রবিবার ছিল কীর্তনের পূর্ণা ও মহন্ত বিদায়ের দিন। এদিন সকালে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সঙ্গে নিয়ে মহাসংকীর্তনের মাধ্যমে এক বর্ণাঢ্য নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। নেতাজিপল্লী, কালাছড়া ও বাজারিছড়া এলাকা পরিক্রমা করে নগর পরিক্রমার সমাপ্তি ঘটে। এরপর কালীবাড়ি মন্দিরে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে ভাবভরে বরণ করা হয়।সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ শুরু হয় পূর্ণা অনুষ্ঠান। পূর্ণার কীর্তন পরিবেশন করেন শ্রীভূমি নিলামবাজারের রাজ গোস্বামী সম্প্রদায়। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সহজ ভাষায় পূর্ণার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন রাজ গোস্বামী। মহাপ্রভুর আজ্ঞা পেয়ে ‘রঘুনন্দন’ অজয় সূত্রধর দধিভাণ্ড মাথায় নিয়ে সপ্তপদ প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করে দধিভাণ্ড ভঞ্জন করেন। পূর্ণার কীর্তনে প্রায় তিন হাজার ভক্তের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্তন সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন কীর্তন কমিটির সভাপতি রাজেশ কর পুরকায়স্থ ও সম্পাদক জন্মজিত দাস। পাশাপাশি ‘রঘুনন্দন’ অজয় সূত্রধর সকল ভক্ত, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কীর্তন কমিটির পক্ষ থেকেও সকল স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানানো হয়।



