উল্লাস প্রকল্পের অধীনে মরিগাঁও জেলার কারাগারের সচেতনতা অনুষ্ঠান

বরাক তরঙ্গ, ১৯ জানুয়ারি : শিক্ষা বিভাগের ‘উল্লাস’ প্রকল্পের অধীনে সোমবার মরিগাঁও জেলা কারাগারের কয়েদীদের মধ্যে একটি সচেতনতা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই উপলক্ষে কারাগার চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা কমিশনার অনামিকা তেওয়ারি নিজের বক্তব্য বলেন, মরিগাঁও জেলা কারাগারের পরিবেশ এখন বদলে গেছে। কারাগারে এলে এখন মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী কয়েদীদের এ ব্যবস্থা করার পক্ষে সমর্থন জানান। কারাবন্দিত্বের সময়টি মনের কণ্ঠস্বর শুনে উদ্ভাবনীমূলক কাজ করার উপযুক্ত সময়। এই সময় আর কখনও আসবে না বলে উল্লেখ করে তিনি কারাগারে কুইজ প্রতিযোগিতারও ব্যবস্থা করতে কারাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, কয়েদীদের শিল্প ও হস্তনির্মিত সামগ্রীর প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হবে। তিনি “হম হোঁগে কাময়াব” শীর্ষক গানটি সমবেত কণ্ঠে গেয়ে সবাইকে উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা কমিশনার অনুসূয়া শর্মা বলেন, এই কর্মসূচির অধীনে কয়েদীদের কারিগরিভাবেও শিক্ষিত করা যায় কিনা তারও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বইকে বন্ধু করে নিলে জীবনের বহু সমস্যার সমাধান নিজেই বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মরিগাঁও জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. অপূর্ব ঠাকুরিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ২৬ জুনে এই উল্লাস অভিযান শুরু করা হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েদীরা কারামুক্ত হয়ে একজন ভাল মানুষ হিসেবে যাতে সমাজে স্থান পেতে পারে সেটা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির অধীনে ১২২ জন কয়েদীকে শিক্ষিত করে তোলা হয়েছে বলে তিনি জানান। কারাগারকে সংশোধনের একটি কেন্দ্র বলে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার আলো অন্ধকার দূর করে জীবনের পথ মসৃণ করে তোলে বলে মত প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ বা এনসিইআরটির ড. মনালিসা পাল বলেন যে ভারতের প্রত্যন্ত কোণায় প্রতিটি ব্যক্তি যাতে সম্পূর্ণরূপে শিক্ষিত হয় তার জন্য সরকার এই উল্লাস কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন  জীবনে জ্ঞান অর্জন করা একটি বড় কাজ। শিক্ষার কোনও সীমা নেই , বয়স নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে একবিংশ শতাব্দীতে শুধু নাম লিখতে পারলেই হবে না, আইনি সাক্ষরতা, নিজের অধিকার ও দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়েও জানতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং ভারতের উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে বলে তিনি জানান।

সভায় অসম উন্নতি সভার সম্পাদক অতনু শর্মা শিক্ষা একজন মানুষকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা না থাকলে আমাদের অন্যরা বিপথে পরিচালিত করার আশঙ্কা থাকে। অনুষ্ঠানে উল্লাসের রাজ্য পরামর্শদাতা ওয়াহিদা রহমান, কারাগার পরিদর্শক মানসজ্যোতি দাস, জেইলার নীলোৎপল কাকতি এবং শিক্ষা বিভাগের আধিকারিক ও কয়েদীরা উপস্থিত ছিলেন। আজকের অনুষ্ঠানে ৪৭ জন কয়েদীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *