মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জানুয়ারি : ভোটার তালিকা নিয়ে করিমগঞ্জ জেলায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন নির্বাচনী আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, জেলার একাধিক পোলিং স্টেশনে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই খবরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ রবিবার সন্ধ্যায় জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ইন্দিরা ভবনে এক জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী, প্রশাসনিক সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুরি, শহর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অনুরাগ দত্ত সহ জেলা কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। বৈঠকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ ও সম্ভাব্য নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ অবিলম্বে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস লিগ্যাল সেলকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার ইন্দিরা ভবনে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস লিগ্যাল সেলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
লিগ্যাল সেলের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী, প্রশাসনিক সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী প্রদীপ কুরি, লিগ্যাল সেলের চেয়ারম্যান আইনজীবী হোসেন আহমেদ চৌধুরী, আইনজীবী রিনা চক্রবর্তী, আইনজীবী হাসনাত চৌধুরী, আইনজীবী লক্ষ্মী দত্ত গুপ্ত সহ অন্যান্য আইনজীবী সদস্যরা। সভায় অভিযোগের সত্যতা, নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস লিগ্যাল টিম অসম রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার ও স্টেট ইলেকশন কমিশনারের উদ্দেশ্যে এক বিশদ বিবরণ সহ লিখিত অভিযোগপত্র প্রেরণ করে। অভিযোগপত্রে জেলার বিভিন্ন পোলিং স্টেশনে সংঘটিত অনিয়ম, ভোটার তালিকা কর্তনের অভিযোগ এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, করিমগঞ্জ জেলায় নির্বাচনে নিযুক্ত কিছু আধিকারিক নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছেন। অতীতেও আমরাএকাধিকবার এমন অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছি। তখন জেলা কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ জেলা কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন। কিছুটা সুরাহা হলেও দুর্ভাগ্যবশত আবারও একই ধরনের অনিয়ম শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ জেলার সমস্ত কংগ্রেসি বিএলএদের নিজ নিজ বুথে সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।



