মাটির নিচ থেকে গৌরাঙ্গ উদ্ধারের ঘটনায় দ্বিতীয় বৃন্দাবনে পরিণত বালিকান্দি গ্রাম

অনিন্দিতা পাল, হাইলাকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জানুয়ারি : বালিকান্দি গ্রামে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাবকে কেন্দ্র করে এখনও রহস্য অব্যাহত। এখনও প্রতিদিন চলছে পূজা অর্চনা। তৎসঙ্গে ভিড়ছেন দর্শনার্থীরা। রবিবার সকালে বালিকান্দি বাগানে মাটি থেকে উদ্ধার হওয়া গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে এলাকার জগন্নাথ মন্দিরে এনে স্নান অভিষেক করানো হয়। তারপর মহাপ্রভুকে নিয়ে নগর কীর্তন করা হয়। এরপর পুনরায় মন্দিরে এসে মহাপ্রভুকে ভোগ নিবেদন করা হয়। দুপুরের গ্রামের শতাধিক ভক্তবৃন্দ মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় মন্দিরে। বালিকান্দি গ্রাম যেন পরিণত হয়েছে দ্বিতীয় বৃন্দাবনে।

উল্লেখ্য, শিরিশপুর জিপির অন্তর্গত বালিকান্দি চা-বাগান এলাকায় বুধবার মকর সংক্রান্তির রথযাত্রার সময় উক্ত এলাকায় এই অলৌকিক ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। জানা যায়, বুধবার আনুমানিক সাড়ে তিনটার সময় মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে যখন বালিকান্দি নাচঘর থেকে রথযাত্রা বের হয়ে বালিকান্দি পিএইচইর কাছে আসার পর হঠাৎ রথের উপর থেকে নাচঘর মন্দিরের পুরোহিত লক্ষীপ্রসাদ বৈষ্ণব অসুস্থতা বোধ করলে তাকে রথ থেকে নিচে নামানোর পর তিনি একটি জায়গা দেখিয়ে সেখানে মাটিখুঁড়ে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মূর্তি বের করার কথা বলেন। তারা আরও জানান যে বালিকান্দি চা বাগান নাচঘর মন্দিরের পুরোহিত লক্ষীপ্রসাদ বৈষ্ণব এর আগে কয়েকবার তাদের বলেছিলেন যে তিনি দু-তিন মাস ধরে স্বপ্নে মহাপ্রভু গৌরাঙ্গের ঠাকুরের মূর্তি এই এলাকার মাটির তলে আছে বলে জানতে পেরেছেন। এরপর পুরোহিত লক্ষ্মীপ্রসাদ বৈষ্ণবের বলা মতে তার দেখানো জায়গায় মাটি খুঁড়ার পর অলৌকিকভাবে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ঠাকুরের মূর্তি বের করা হয়।

বলিরামবাবু এবং পিকলু বাবু আরো জানান যে এই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মূর্তি মাটি থেকে বের হওয়ার পর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মূর্তি দর্শনের জন্য কাতারে কাতারে লোক জমা হতে থাকে। এরপর হিন্দু ধর্মের রীতি অনুসারে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মূর্তিকে স্নান করিয়ে পবিত্র ভাবে স্থানীয় এক সনাতনী ভাইয়ের ঠাকুরঘরে রাখা আছে। পরবর্তীতে মূর্তিটিকে বালিকান্দি চা-বাগান নাচঘর মন্দিরের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা হবে। বালিকান্দি এলাকায় এই অলৌকিকভাবে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ঠাকুরের মূর্তি মাটির ভেতর থেকে বের হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *