কাজিরঙার এলিভেটেড করিডরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর______
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জানুয়ারি : দু’বছর আগে কাজিরঙায় কাটানো সময়টি আমার জীবনের বহু বিশেষ অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে রাত্রিযাপনের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং পরদিন সকালে হাতি সাফারির মাধ্যমে সেই এলাকার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। অসমে এলেই আমার আলাদা এক আনন্দ অনুভূত হয়। এই ভূমি বীরের ভূমি! রবিবার কাজিরঙার এলিভেটেড করিডরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে জনসভায় পূর্বে আসার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, এবার অসমবাসীর জন্য বহু কোটি টাকার উপহার দিতে প্রস্তুত কেন্দ্র।
৬,৯৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজিরঙার এলিভেটেড করিডর নির্মিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে যাওয়া NH-715 সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলিভেটেড করিডর নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বন্যার সময় বন্যপ্রাণীরা নিরাপদে কার্বি আংলং পাহাড়ে যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প পর্যটন ও এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৩–১৪ সালের আশেপাশের সময়ে গণ্ডার শিকারের ঘটনা ঘনঘন ঘটত।” অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক গণ্ডার হত্যার ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। মোদি বলেন, “সরকার সংরক্ষণ কৌশলের নতুন রূপ গ্রহণ করেছে এবং স্থলভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে এই ধরনের ঘটনার অবসান ঘটাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে।” স্থানীয় জীবিকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিবাচক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকলে তা নতুন সুযোগও সৃষ্টি করে।” প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কাজিরঙা ও আশপাশের অঞ্চলে গত কয়েক বছরে পর্যটনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে হোমস্টে, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পর্যটন-সংক্রান্ত পরিষেবা যেমন গাইডিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছে।

এ দিন কলিয়াবরের মৌচন্দা পথার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলকে সম্বোধন করেন। মৌচন্দা পথারে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।



