বরাক তরঙ্গ, ১৭ জানুয়ারি : মরিগাঁও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, মরিগাঁও জেলা শিক্ষা বিভাগ, জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় শনিবার শিল্পী দিবস উদযাপন করা হয়। জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করে শিল্পী জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মরিগাঁও জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. অপূর্ব ঠাকুরীয়া ও জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তথা বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কিশোর কুমার দাস। জেলা শিক্ষা আধিকারিক ড. অপূর্ব ঠাকুরিয়া তার ভাষণে রূপকোয়রের অবদানের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি রূপকোয়রের আদর্শে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে মরিগাঁও জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইটি শাখায় জ্যোতি সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সভায় অংশ নিয়ে জেলা কমিশনার অনামিকা তেওয়ারী বলেন, অসমিয়া জাতি শিল্পীকে সর্বদা উপযুক্ত সম্মান দিয়ে আসছে। সম্প্রতি জুবিন গর্গের ক্ষেত্রে জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ যে আবেগে প্রাণের শিল্পীটিকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে দিয়েছিল সেটা সত্যিই অতুলনীয় ও অকল্পনীয়। প্রতিটি জ্যোতি সংগীতের প্রাসঙ্গিকতা আজও আছে উল্লেখ করে তিনি। জ্যোতিপ্রসাদের আদর্শকে আমরা জিইয়ে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন। মরিগাঁও জেলা শিল্প সাধনার জন্য বিখ্যাত। এমন একটি জেলায় জ্যোতিপ্রসাদের মতো মনীষীকে তার কর্মরাজির মাধ্যমে জিইয়ে রাখা প্রত্যেক ব্যক্তির দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তথা চিত্রশিল্পী কিশোরকুমার দাস মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, মনে দৃঢ়তা থাকলে মানুষ যেকোনও কাজ করতে পারে। অসমিয়া চলচ্চিত্র জগতের জন্য জ্যোতিপ্রসাদ যা রেখে গেছেন তা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বহু প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি ১৯৩৫ সালে প্রথম অসমিয়া চলচ্চিত্র “জয়মতী” নির্মাণ করেছিলেন। শিল্পী দিবস উদযাপন করলেই হবে না উল্লেখ করে আজকের সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
সভায় সিনিয়র সাংবাদিক তথা মরিগাঁও জেলা সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি প্রতাপ হাজরিকা বলেন, জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা ছিলেন রূপান্তরের যাত্রী। জ্যোতিপ্রসাদ বলেছিলেন যে শিল্পের মাধ্যমে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম সেটাই হল প্রকৃত সংস্কৃতি। প্রগতিশীলতার ধারণাটি জ্যোতিপ্রসাদ আমাদের সমাজে দিয়ে গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাজ পরিবর্তনের যে ধারা সেটা জ্যোতিপ্রসাদের সৃষ্টিতে আছে। তিনি কেবল শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপ্লবী, যিনি সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুনের বীজ বুনে একটি নতুন সমাজ সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করেছিলেন। অনুষ্ঠানে অসম উন্নতি সভার সম্পাদক অতনু শর্মা বলেন যে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে নিজের সংস্কৃতির স্বাভিমান রক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানে জ্যোতি সংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, এই অনুষ্ঠানেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিত্রশিল্পী কিশোর কুমার দাসকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা কমিশনার অনুসূয়া শর্মা, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা, ডায়েটের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।



