জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় চতুর্থ দফার শুনানি সম্পন্ন
বরাক তরঙ্গ, ১৭ জানুয়ারি : কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনায় আজ চতুর্থ দফার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজের আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন জুবিন গর্গের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গর্গ, তদন্তকারী অফিসার মরমী দাস, অমৃতপ্রভা মহন্তর আইনজীবী এবং লোক আইনজীবী জিয়াউল কামার। আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী তাঁর যুক্তি উপস্থাপন করেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে গরিমা শইকিয়া গর্গ বলেন, “আমরা চাই দোষীরা যেন সর্বোচ্চ ও কঠোর শাস্তি পায়। অসুর বধ হতেই হবে, অশুভ শক্তির নির্মূল হতেই হবে। সিঙ্গাপুরে কেবল সেই দিনের ঘটনাগুলিরই তদন্ত হয়েছে। ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় আসা জরুরি। সিঙ্গাপুর সেই দিকের তদন্ত করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই সন্দীপন সত্য কথা বলুক। একজন ভাই হিসেবে, একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে সত্যটা প্রকাশ করা তার দায়িত্ব। সন্দীপন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তার দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দাদার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে হলেও তার উচিত সত্য বলা।”
গরিমা শইকিয়া গর্গ আরও জানান, ইয়টে উপস্থিত সকল ব্যক্তিকেই বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ১৪-১৫ জন মানুষের মধ্যে একজন মানুষ এভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যেতে পারে কি? ইয়টে থাকা প্রবাসী ব্যক্তিদের অসমে আসতেই হবে। আমাদের একটাই দাবি—ইয়টে থাকা প্রবাসী অসমিয়াদের সবাইকে এখানে আসতে হবে। আমাদের দৃষ্টিতে ইয়টে উপস্থিত প্রত্যেকেই দোষী। তারা চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। জুবিনকে কি কেবল বিনোদনের জন্যই প্রয়োজন ছিল? তার প্রতি কি তাদের কোনও দায়িত্ব ছিল না?
উল্লেখ্য, এই মামলার পাঁচ অভিযুক্তই আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন পরেশ বৈশ্য, সন্দীপন গর্গ, শ্যামকানু মহন্ত, অমৃতপ্রভা মহন্ত এবং নন্দেশ্বর বরাই। এর আগে পরেশ বৈশ্য, অমৃতপ্রভা মহন্ত ও সন্দীপন গর্গ আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন।



