১৩ জানুয়ারি : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে ফের প্রাণ গেল এক যুবকের। ফেনি জেলার দাগনভূঁইয়া এলাকায় রবিবার রাতে ২৮ বছরের অটোচালক সমীরকুমার দাসকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা তাঁর চালানো অটোরিকশাটিও নিয়ে পালিয়েছে।
পরে স্থানীয় উপ জেলা হাসপাতালের কাছে যুবকের দেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান এটি ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা। তদন্ত চলছে, তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সমীর দাসের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে গত ৪২ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২ জনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অশান্তি ও বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। সম্প্রতি এন্টি ইন্ডিয়া ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে নারসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানদারকে দোকানেই হামলা করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, গত সপ্তাহে সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ এক দোকানদারের দ্বারা অপমানিত ও নির্যাতিত হওয়ার পরে তিনি মানসিক চাপে পড়ে প্রাণ হারান। অন্যদিকে, মিঠুন সরকার নামে ২৫ বছরের আরও এক যুবক চুরি সন্দেহে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দিলে প্রাণ হারান।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে গত দুই সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ, দোকান লুট, ভয় দেখানো ও প্রশাসনিক পদে থাকা হিন্দু নারীর উপর চাপ সৃষ্টি সহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন দাবি করেছে ঘটনাগুলি ‘সম্প্রদায়গত নয়’, বরং বিচ্ছিন্ন অপরাধ। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে বলেও তাঁদের বক্তব্য।
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও অস্থিরতার মধ্যেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে।



