মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১২ জানুয়ারি : গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কাজের আইনি নিশ্চয়তা প্রদানকারী এমজিএনআরইজিএ পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাল করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস। সোমবার জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ইন্দিরা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমজিএনআরইজিএ-র পরিবর্তে ভিবিজি রামজি আইন চালুর বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেতারা। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, এমজিএনআরইজিএ দেশের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ন্যূনতম ১০০ দিনের কাজের আইনি গ্যারান্টি দিয়েছিল এবং তা গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের রুটি-রুজির প্রধান ভরসা ছিল। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনকে দুর্বল করে ভিবিজি রামজি নামের নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার কার্যত খর্ব করেছে। এর ফলে গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবিকা ও মর্যাদা আজ গভীর সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি কংগ্রেসের।
কংগ্রেস নেতারা এমজিএনআরইজিএ ও ভিবিজি রামজি আইনের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, এমজিএনআরইজিএ-তে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের অর্থায়ন ছিল ৯০ শতাংশ এবং রাজ্যের ১০ শতাংশ। কিন্তু গত এক দশকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিবিজি রামজি আইনে সাধারণ রাজ্যগুলিতে অর্থায়নের অনুপাত ৬০:৪০ করা হয়েছে, ফলে রাজ্য সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের ওপর—কাজ কম পাওয়া, কাজের দিন হ্রাস এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ না পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয় অবিলম্বে ভিবিজি রামজি আইন বাতিল করতে হবে, এমজিএনআরইজিএ পূর্ণ শক্তিতে পুনর্বহাল করতে হবে, গ্রামীণ মানুষের ১০০ দিনের কাজের আইনি অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সমস্ত বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানায়, গ্রামীণ মানুষের রুটি, কাজ ও মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেস চুপ করে থাকবে না এবং এই আন্দোলন তথ্যভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে চলবে। এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমেদ চৌধুরী-সহ বিশ্বজিৎ ঘোষ, সুব্রত দেব, পঙ্কজ নাগ, মমতাজ বেগম, রাইজ চৌধুরী, ধ্রুবজ্যোতি দাস, কমরুল হক, রিনা চক্রবর্তী, অনুরাগ দত্ত, অহিরঞ্জন দে, সোনু দাস, সুস্মিত দেব, রাজা দত্ত বণিক প্রমুখ।



