অসংখ্য ভক্তের সমাগমে পাথারকান্দিতে সম্পন্নতিনদিনব্যাপী ২৪ প্রহর হরিনাম মহাসংকীর্তন

বরাক তরঙ্গ, ৯ জানুয়ারি : ভক্তি, বিশ্বাস ও নামস্মরণের আবেশে টানা তিনদিন মুখরিত হয়ে উঠেছিল পাথারকান্দি শহর। ঢাক–করতাল মৃদঙ্গের তালে তালে ‘হরিনাম’-এর ধ্বনিতে এক অপার্থিব আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়। বিশ্ব মঙ্গল কামনায় আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ২৪ প্রহর হরিনাম মহাসংকীর্তনে অসংখ্য কৃষ্ণভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পাথারকান্দি টাউন কালীবাড়ি নাটমণ্ডপ প্রাঙ্গণ যেন এক সময়ের জন্য বৃন্দাবন ধামে রূপ নেয়। অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতি ও ভাবগম্ভীর ধর্মীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মঙ্গল কামনায় তিনদিনব্যাপী ২৪ প্রহর হরিনাম মহাসংকীর্তন সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে শুক্রবার। প্রতি বছরের মতো এবারও এই মহাসংকীর্তন পাথারকান্দি টাউন কালীবাড়ি নাটমণ্ডপ প্রাঙ্গণকে ভক্তি, নামসংকীর্তন ও আধ্যাত্মিক আবহে পরিপূর্ণ করে তোলে।সোমবার সন্ধ্যায় অধিবাস অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৪ প্রহর হরিনাম মহাসংকীর্তনের সূচনা হয়। পরবর্তী তিন দিন মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দিবা-রাত্রি অবিরামভাবে চলে মহাপ্রভুর লীলা ও নামসংকীর্তন। এই ধর্মীয় আয়োজনে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত কীর্তনীয়া দলের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী রাজ্য ত্রিপুরার একাধিক প্রখ্যাত কীর্তনীয়া দল অংশগ্রহণ করে। তাঁদের কণ্ঠে পরিবেশিত নামসুধায় মুগ্ধ হন উপস্থিত হাজারো ভক্ত ও শ্রোতারা।
টানা তিনদিনব্যাপী চলা এই মহাসংকীর্তনের ফলে টাউন কালীবাড়ি নাটমণ্ডপ যেন এক সময়ের জন্য বৃন্দাবন ধামে রূপ নেয়। ঢাক, করতাল, মৃদঙ্গের তালে তালে ‘হরিনাম’-এর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

বৃহত্তর পাথারকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা প্রতিদিনই নামসংকীর্তনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি গৌর-গোবিন্দের মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন।শুক্রবার সকালে মহাপ্রভুর প্রতিকৃতি নিয়ে নগর পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। পরিক্রমা শেষে দধিভাণ্ড ভঞ্জন ও মহন্ত বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় এই মহাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠান চলাকালীন শৃঙ্খলা রক্ষা, ভক্তদের সুবিধা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটির সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রশংসিত হয়। এই উপলক্ষে আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবছরও এই হরিনাম মহাসংকীর্তনে রেকর্ড সংখ্যক কৃষ্ণভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সমগ্র কীর্তন কার্যক্রমকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষে বিষ্ণু সাহা, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, গৌরহরি দাস, দেবব্রত চক্রবর্তী সহ অন্যান্য সদস্যরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয়বাসীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *