মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ জানুয়ারি : এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন দোহালিয়ার উদীয়মান যুবক তথা কানাইবাজার ইউনিক স্কুলের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সাগর নাথ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটা নাগাদ শিলচর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, বর্ষশেষের রাতে অর্থাৎ গত ৩১ ডিসেম্বর, দোহালিয়া এলাকার বাসিন্দা সমীর নাথের একমাত্র অকৃতদার পুত্র সাগর নাথ নিজের বুলেট বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কানাইবাজার–আছিমগঞ্জ সড়কের নতুন জিম সেন্টারের সামনে একটি দ্রুতগতির হাইবা গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয় তাঁর বাইকে। প্রচণ্ড ধাক্কায় সাগর নাথ বাইক সমেত রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাথারকান্দি হাসপাতাল এবং পরে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি শিলচর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শনিবার ময়নাতদন্তের পর তাঁর মরদেহ নিজ বাড়িতে আনা হয় এবং সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই সময় মরদেহ বাড়িতে আনার ক্ষেত্রে পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, যা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।সাগর নাথ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও প্রতিশ্রুতিশীল একজন শিক্ষক।
ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় শিক্ষক এবং এলাকায় একজন ভদ্র ও কর্মঠ যুবক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর এমন অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে দোহালিয়া, কানাইবাজার সহ গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শিক্ষক মহল, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় মানুষজন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেকেই প্রয়াত সাগর নাথের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।এক প্রতিভাবান যুবকের এমন অকাল প্রয়াণ নিঃসন্দেহে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতিএমনটাই মত এলাকাবাসীর।



