১২ বছর আগে বধূ হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী-শ্বশুর! হঠাৎ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার ‘মৃত’ মহিলা

Spread the news

১২ সেপ্টেম্বর : প্রায় ১২ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি কথিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল বিহারের রোহতাস জেলায়। এক মহিলাকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা এবং ভাশুর গোবিন্দ কুমার-সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মামলা ও কারাবাসের পর এবার সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যাঁকে হত্যার অভিযোগে ওই পরিবারকে জেল খাটতে হয়েছিল, সেই সরস্বতী দেবীকেই জীবিত অবস্থায় ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের। রোহতাস জেলার ডেহরি এলাকার বালরতি বিঘা-দহাউর এলাকা থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান সরস্বতী দেবী। কয়েকদিন পর, ২২ আগস্ট মুফস্সিল থানা এলাকার খণ্ডা গ্রামের কাছে একটি নালা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরস্বতীর দাদা ওই দেহটি তাঁর বোনের বলে শনাক্ত করেন।

এরপর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় এবং সরস্বতীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের আট সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় সরস্বতীর স্বামী, শ্বশুর ও ভাশুর-সহ পরিবারের কয়েকজনকে। মামলার জেরে তাঁদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়।

তবে সম্প্রতি ডেহরি মুফস্সিল থানার পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে, সরস্বতী দেবী আসলে জীবিত এবং ঝাড়খণ্ডে বসবাস করছেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশের একটি দল। ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার কান্ডি থানা এলাকার লভারি গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক মহিলাকে আটক করা হয়। সেখানে রট্টু সিং নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘কান্তি দেবী’ নামে বসবাস করছিলেন ওই মহিলা। পরে তাঁকে বিহারে এনে সাসারাম আদালতে হাজির করা হয়।

সরস্বতী জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের পর ২০১৪ সালের সেই মামলার তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নালা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহটি আসলে কার ছিল, কীভাবে সেটি সরস্বতীর দেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং তদন্তে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যাচাই করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, সরস্বতীর স্বামীর পরিবারের দাবি, তাঁদের জীবনের মূল্যবান ১২টি বছর অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তাই গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরনো মামলাটি নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *