টোল গেটে আটকে দেওয়া হল জুবাইর এনামের মিছিল, সীমিত প্রতিনিধিদল নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : পাথারকান্দির বহুল আলোচিত গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার শ্রীভূমি জেলায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে কংগ্রেস বিধায়ক ও যুব নেতা জুবাইর এনামের কনভয়কে নিউ করিমগঞ্জ সংলগ্ন টোল গেটে আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রশাসনের অনুমতিতে সীমিত সংখ্যক প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি স্মারকপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, পাথারকান্দির গণপিটুনির ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচারের দাবি এবং আন্দোলনরত জনতার প্রতি সংহতি জানাতে বিপুল সংখ্যক যুব কংগ্রেস কর্মী-সমর্থককে নিয়ে শ্রীভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হন জুবাইর এনাম। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে প্রশাসন তাঁর কনভয়কে টোল গেটেই থামিয়ে দেয়।

পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় ও উত্তেজনা এড়ানোর স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে জুবাইর এনামকে সীমিত প্রতিনিধিদল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তিনি কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে করিমগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পাথারকান্দির সাম্প্রতিক গণপিটুনির ঘটনা, তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। জুবাইর এনাম নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাটির তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এদিন টোল গেটে পুলিশ ও জুবাইর এনামের সমর্থকদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

উল্লেখ্য, গরু চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে পাথারকান্দিতে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এদিকে, জুবাইর এনাম সাংবাদিকদের জানান, পাথারকান্দির এই কথিত ‘মব লিঞ্চিং’-এর বিষয়টি তিনি আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে উত্থাপন করবেন। তাঁর কনভয় আটকে দেওয়া এবং পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *