‘মব লিঞ্চিং’-এর প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল পাথারকান্দি, গ্রেফতার আরও দুই

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : গরু চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠল পাথারকান্দি। শনিবারও হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান। সকাল থেকেই পাথারকান্দি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-যুবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহরে জড়ো হন। পরে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে। মিছিল চলাকালীন “দোষীদের গ্রেফতার করো”, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করো” এবং “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করো” ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও কালো পতাকা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, পাথারকান্দি দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের জন্য পরিচিত। জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধী নির্ধারণের একমাত্র অধিকার আইনের, তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, পুলিশ সুপার অর্ণীবান শর্মা জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে চারজন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।” পুলিশের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানালেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল পাথারকান্দি সমজেলা এসপি অনির্বাণ শর্মা এবং পাথারকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মানসজ্যোতি বরা হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপিতে ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি সাদিক আখতার, প্রাক্তন সভাপতি রফিক আহমদ, নাসির উদ্দিন, বদরুল হক, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সামিম আহমদ, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল কাদিরসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *