ফতেহপুর মওলানা আব্দুল জলিল মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা লাটে, ক্ষুব্ধ জনতা

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর: স্বাস্থ্য বিভাগের চরম উদাসীনতায় ফতেহপুর মওলানা আব্দুল জলিল মেমোরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা লাটে উঠেছে! হাসপাতালের পরিষেবা সচল করতে সরব স্থানীয় জনতা। শনিবার বৃহত্তর ফতেহপুর এলাকার জনতা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও স্টাফের অভাবে ধুঁকছে হাসপাতালটি। দীর্ঘদিন ধরে একজন চিকিৎসক দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে ফতেহপুর আব্দুল জলিল মেমোরিয়াল হাসপাতাল।

রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করতে যখন রাজ্য সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঠিক সে-সময় চিকিৎসা পরিষেবার এক নগ্ন ছবি ফুটে উঠেছে দক্ষিণ করিমগঞ্জের ফতেহপুরস্থিত মওলানা আব্দুল জলিল মেমোরিয়াল হাসপাতালে। যে হাসপতালে স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই বললে চলে।

প্রতিদিনের মতো শনিবার হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য স্থানীয় রোগীরা উপস্থিত হন। কিন্তু বেলা এগারোটা, সাড়ে এগারোটা বাজলেও হাসপাতালের দরজা খোলা হয়নি। যদিও বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে আটটা থেকে হাসপাতালে রোগী দেখার জন্য ওপিডি কক্ষে বসতে হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে। কিন্তু শনিবার সকালে ফতেহপুর, সাগরপার, চাতল, খাগাইল, রুপাইল, আমডহর সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসংখ্য রোগী উপস্থিত হলেও ডাক্তারের দেখা পাননি রোগীরা। কোনও উপায়ান্তর না পেয়ে কোনো ধরণের চিকিৎসা না-করিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে রোগীদের। আবার কোনও মুমূর্ষ রোগী প্রায় পাঁচ ছয় কিলোমিটার দুরে কালীগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করতে হচ্ছে। এতে একজন রোগীর যেমন বাড়তি কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে ঠিক তেমনি বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।

অভিযোগ মতে, শ্রীভূমি জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের চরম উদাসীনতায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা লাটে উঠেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ফতেহপুরস্থিত মওলানা আব্দুল জলিল মেমোরিয়াল হাসপাতাল। এই হাসপাতালে রয়েছেন একজন মাত্র চিকিৎসক। যে চিকিৎসক হাসপাতালের সকল ধরনের কাজ করতে হয়। হাসপাতালের দরজা খোলা থেকে শুরু করে ঘর সাফাই, রোগী দেখা, ওষুধ প্রদান সহ ওপিডি টোকেন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দিতে হয়।

বর্তমানের হাসপাতালে কোনও নার্স ওনেই। নেই কোনো অফিস স্টাফ। না-আছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। একেবারে সহজ ভাষায় বলতে গেলে হাসপাতালটি জোড়াতালির মধ্যে দিয়ে খাতায় পত্রে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। শনিবার দীর্ঘ বেলা পর্যন্ত যখন হাসপতালের দরজার তালা খোলা হয় নি দেখে এলাকার বিশিষ্ট জনেরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহ বিভাগীয় মান্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিবাদ করেন। তারা বলেন দীর্ঘ বছর কয়েক হয়েছে হাসপাতালটি স্থাপন করার। কিন্তু আজও এই হাসপতালে সঠিক ভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ শ্রীভূমি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সহ বিভাগীয় মন্ত্রী। স্থানীয়রা ক্ষোভের সুরে বলেন খুব শীঘ্রই যদি হাসপতালের পরিষেবার কোনো উন্নতি না হয় তাহলে শ্রীভূমি স্বাস্থ্য যুগ্ম সঞ্চালকের কার্যালয়ের ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *