ভেদাভেদ ভুলে উনিশের মিছিলে সহযোগী হন সবাই, আওয়াজ উঠুক ভাষা শহিদদের স্বীকৃতির : বিডিএফ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৫ এপ্রিল : আসন্ন উনিশে মের মিছিল নিয়ে সম্প্রতি শিলচরে একটি সভা আয়োজিত হয়েছে। এতে উদ্যোক্তরা দুই তিনটি মিছিলের পরিবর্তে উনিশে মে-র দিন সমস্ত সংগঠন মিলে একটি মিছিল করার প্রস্তাব রেখেছেন। একটি সংগঠন এতে আপত্তি জানিয়েছেন, যেহেতু তাঁরা ইতিমধ্যেই ১৭ মেতে এই রকম একটি কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা ও প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছেন। যাইহোক একটি সংগঠনের এনিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাধ্যবাধকতা থাকতেই পারে। তবে উনিশে মে-র প্রস্তাবিত মিছিলে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।

এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, উনিশের মিছিল এমনটাই হওয়া উচিত যা সমগ্র দেশে বরাক উপত্যকার সামগ্রিক ঐক্যের ছবিকে প্রতিফলিত করে এবং যাতে এই ঐক্যের বার্তা সবার কাছে পৌঁছায়। তাই সাংগঠনিক- রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত সব ভেদাভেদ ভুলে উনিশের মিছিলে সবাইকে সহযোগী হবার আহ্বান জানাচ্ছে বিডিএফ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যারা অন্যদিনে মিছিল করছেন তাঁরাও যদি উনিশে মের মিছিলে পা মেলান তবেই সার্থক হবে এই উদ্যোগ। তাই এজন্য সবাইকে যত্নবান হতে হবে।

জয়দীপ এদিন আরও বলেন, উনিশ ছিল প্রান্তিক এই জনপদের বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এটি মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন ছিল কিন্তু এর ব্যঞ্জনা ছিল সুদূর প্রসারী। শাসকের ঔপনিবেশিক প্রক্রিয়া ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সেদিন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন জাতিধর্ম নির্বিশেষে এই উপত্যকার আপামর জনগন। তিনি বলেন, ভাষিক অধিকার রক্ষার এই আন্দোলন রুপান্তরিত হতে পারত এই উপত্যকার সামগ্রিক আর্থ- সামাজিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। সেই সম্ভাবনা অবশ্যই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। জয়দীপ বলেন এ আমাদের দুর্ভাগ্য।

বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক এদিন বলেন, তাই উনিশে মে কে শুধু সাংস্কৃতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে একে বরাক উপত্যকার সামগ্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই আরব্ধ কাজের দায়িত্ব নিতে হবে যারা আজ উনিশে মের বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোক্তা রয়েছেন।

জয়দীপ বলেন, উনিশের মিছিল থেকে কেন উপত্যকার দীর্ঘদিনের  আবেগ ‘ ভাষা শহিদ স্টেশন ‘ নামকরণের দাবি উঠবে না ? কেন শহিদদের সরকারি স্বীকৃতি, তাঁদের পরিবারদের সরকারি অনুদানের দাবি উঠবে না ? কেন ‘ মুক্তেশ্বর কেম্প্রাই ‘ নামের জনৈক ব্যাক্তি যিনি ভাষা শহিদদের অপমান করলেন অবিলম্বে তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি উঠবে না ? এসব তো উঠাই উচিত।

বিডিএফ আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে এদিন বলেন, একই সাথে উনিশের মিছিল থেকে অন্যায়ভাবে বরাক থেকে কেঁটে নেওয়া দুটি বিধানসভা আসন ফিরিয়ে দেবার দাবি উঠুক। কেন বরাক উপত্যকার স্থানীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি পদ বরাকের ছেলেমেয়েদের জন্য সংরক্ষিত হবে না, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠুক,দাবি উঠুক। দাবি উঠুক বরাকের শিল্পায়নের, দাবি উঠুক বরাকে জাতীয় মানের স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করার,দাবি উঠুক পরিকল্পিত বন্যা নিয়ন্ত্রণের, দাবি উঠুক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের।

হৃষীকেশ এদিন বলেন, উনিশ অবশ্যই একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল তবে সে রাজনীতি জাতীয় বা দলীয় রাজনীতি নয়, এই রাজনীতি নিঃসন্দেহে ছিল নাগরিকদের ভাষিক সহ সামগ্রিক অধিকার রক্ষার রাজনীতি,বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রাজনীতি। তিনি বলেন আজকের উনিশের উদযাপন এই রাজনীতি থেকে বিযুক্ত হচ্ছে বলেই ধীরে ধীরে তার প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে।বিশেষতঃ এইজন্যই আজকের যুব প্রজন্মের উনিশের সাথে সংলগ্নতা কমে আসছে। তাই এবারের উনিশের মিছিলে অন্ততঃ প্লাকার্ড,পোস্টার,ব্যানারে এই দাবিগুলো সন্নিবিষ্ট হোক।

বিডিএফ সদস্যরা এদিন বলেন, এবারের উনিশে মে উদযাপনের উদ্যোক্তাদের তাঁরা এসব নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার আবেদন জানাচ্ছেন। তাঁরা বলেন যে এবারের উনিশ উদযাপন এই উপত্যকার আর্থ- সামাজিক অধিকার আদায়ের দৃপ্ত স্লোগান হয়ে উঠুক , উনিশ আবার সঠিক প্রেক্ষিতে,স্বমহিমায় ফিরে আসুক,এটাই তাঁদের কামনা। বিডিএফ এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *