বরাক তরঙ্গ, ২১ এপ্রিল : মণিপুরে সাম্প্রতিক অশান্তি ফের রাজ্যটিকে এক অনিশ্চিত ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একটি মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ক্ষত আবারও সামনে চলে এসেছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় চলতি মাসের শুরুতে বিষ্ণুপুর জেলায় বোমা বিস্ফোরণে দুই নাবালক ভাইবোনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে। এই ঘটনায় ইম্ফল উপত্যকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শোক ও ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া প্রতিক্রিয়া দ্রুতই রূপ নেয় বিক্ষোভ, বনধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে, যা রাজ্যের পরিস্থিতিকে কতটা অস্থির করে তুলেছে তা স্পষ্ট করে।
ইম্ফলে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যেখানে মশাল মিছিল ও রাস্তায় প্রতিবাদে বিপুল জনসমাগম হয়। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের শাস্তি ও দায়বদ্ধতার দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ, নির্ধারিত এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এই ঘটনার পর একাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে এবং কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে, ফলে স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বাজার-হাট বন্ধ, যান চলাচল ব্যাহত এবং উপত্যকার বহু এলাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
যদিও একাধিক গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে, তবে ঘটনার দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। উপত্যকার একাংশের পক্ষ থেকে কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও প্রশাসনের তরফে এখনো পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সন্দেহপ্রবণ করে তুলেছে।
পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে এই বিষয়টি যে, অশান্তি আর কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ বিস্তৃত আকার ধারণ করছে।



