মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ এপ্রিল : দক্ষিণ করিমগঞ্জ গণতন্ত্রের মহোৎসবে ভোট গ্রহণ পর্ব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল মিত্র জোটের প্রার্থী ইকবাল হোসেন এর কণ্ঠে।নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনে মিত্র জোটের জয় প্রায় নিশ্চিত, এবং সেই জয়ের ব্যবধান হবে কমপক্ষে ২০ হাজার ভোট।
ভোট প্রদান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, “এবারের নির্বাচনে দক্ষিণ করিমগঞ্জের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের উৎসাহ, সমর্থন এবং উপস্থিতি দেখে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।তিনি আরও দাবি করেন, এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটাররা এবার অনেকটাই তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, “সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ হাতি প্রতীকের পক্ষে গেছে, যা আমাদের পক্ষে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।একইসঙ্গে সংখ্যাগুরু ভোটারদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,দক্ষিণ করিমগঞ্জে বিজেপির মূল ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত সংখ্যাগুরু ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট এবার মিত্র জোটের প্রার্থীর অনুকূলে পড়েছে বলে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি।
ইকবাল হোসেনের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর এই আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ভোটারদের মনোভাব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই উঠে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিন তিনি দক্ষিণ করিমগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “মানুষ যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসার মর্যাদা রাখার দায়িত্ব আমার।
জয়লাভের পর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল হোসেন স্পষ্ট করে জানান, তিনি মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলোকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেবেন।তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উন্নয়নের রূপরেখা “দক্ষিণ করিমগঞ্জে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এই বিষয়গুলোকেই আমি প্রথম অগ্রাধিকার দেব। পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া হবে।তিনি আরও যোগ করেন, “আমি শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই যে দক্ষিণ করিমগঞ্জের উন্নয়নই আমার একমাত্র লক্ষ্য। গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইকবাল হোসেনের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা যে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ফলাফল কতটা তাঁর এই দাবি ও প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে।



