সোনাইয়ে সদস্যপদ থেকে ইস্তফা ৯ মণ্ডল কংগ্রেস সভাপতি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৫ মার্চ : রাজ্যের ৪২টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই জেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাক্তন বিধায়ক আমিনুল হক লস্করকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে সোনাই কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে একযোগে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সোনাই ব্লকের ৯ জন মণ্ডল কংগ্রেস সভাপতি। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁরা তাঁদের পদত্যাগপত্র জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্যের কাছে প্রদান করেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন— সোনাই টাউন মণ্ডলের সভাপতি আমিনুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ মোহনপুর মণ্ডলের সভাপতি শাহাজান আহমেদ বড়ভূইয়া, স্বাধীন বাজার মণ্ডলের সভাপতি জাহির আহমেদ বড়ভূইয়া, দিদারখুশ মণ্ডলের সভাপতি আনফার আলি বড়ভূইয়া, ভাউরিকান্দি মণ্ডলের সভাপতি নজরুল ইসলাম আহমেদ, কাপ্তানপুর মণ্ডলের সভাপতি আলতাফ হোসেন লস্কর, কচুদরম মণ্ডলের সভাপতি আব্দুল হক মজুমদার, নগদীরগ্রাম মণ্ডলের সভাপতি মনসুর হিলাল লস্কর এবং কাজিডহর মণ্ডলের সভাপতি এখলাস উদ্দিন বড়ভূইয়া।

পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূল স্তরে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসা প্রবীণ ও বিশ্বস্ত কংগ্রেস নেতাদের উপেক্ষা করে সদ্য অন্য দল থেকে যোগদানকারী একজন নেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তে সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং কর্মী সমর্থকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বে অব্যাহত থাকা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তাঁরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে, জেলা সভাপতি সজল আচার্য পদত্যাগ প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রার্থীত্ব ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সোনাই কংগ্রেসে পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বহু নেতা-কর্মী সামাজিক মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন। টিকিট বঞ্চিত সোনাই ব্লক কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি আক্তার হোসেন বড়ভূইয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আরেক প্রার্থীত্ব প্রত্যাশী আনসার হোসেন বড়লস্কর নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সোনাই বিধানসভা যুব কংগ্রেসের সভাপতি রাকিব মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “অবশেষে টাকার বিনিময়ে সোনাই কেন্দ্রে বছর বছর ধরে কংগ্রেস সংগঠন করে আসা প্রকৃত নেতা-কর্মীদের পরিশ্রম এবং দলীয় বিশ্বস্ততাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সোনাইয়ের যুব সমাজকে এই কংগ্রেস দল বারবার ব্যবহার করেছে এখন আর ব্যবহারের রাজনীতি চলবে না। দলীয় হাইকামান্ড এটা ভালো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সঠিক সময়ে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” প্রার্থীত্ব ঘিরে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি আগামী দিনে সোনাইয়ের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *