২ মার্চ : সম্প্রতি পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। রোববার দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই অভিযানে অন্তত ৪১৫ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৫৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই তথ্য জানানো হয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, অভিযানের সময় তারা ১৮২টি চেকপোস্ট ধ্বংস করেছে এবং ৩১টি চেকপোস্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এছাড়া ১৮৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে। আফগানিস্তানের ৪৬টি স্থানে বিমান হামলাও চালানো হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আফগান তালেবানের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত এই অভিযান বা তালেবান সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং তালেবান ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা। তারা দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও পাকিস্তানের দাবি যথেষ্ট তর্কসাপেক্ষ, তবে সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এটি ভবিষ্যতে আরও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আফগানিস্তানের সীমানায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার ফলে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সেসব এলাকায় স্কুল, বাজার ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সীমানার উত্তেজনা, তালেবান কর্মকাণ্ড এবং সামরিক পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সংযমী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।




