মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মার্চ : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও নান্দনিক সাজে সেজে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী করিমগঞ্জ টাউন ঈদগাহ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আর সেই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে উৎসবের আনন্দঘন আবহ।ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ইতোমধ্যেই ঈদগাহ মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুসজ্জিত করা হয়েছে। রঙিন তোরণ, আলোকসজ্জা এবং শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রতিবারের মতো এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটবে এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহে—এমনটাই আশা করছেন আয়োজকরা।ঈদের দিন সকালেই নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।এদিকে, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঈদগাহ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী, পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য এবং আনন্দের সমন্বয়ে করিমগঞ্জ টাউন ঈদগাহ প্রস্তুত পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য। এখন শুধু অপেক্ষা খুশির সেই সকালটির, যখন একসঙ্গে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ঈদের আনন্দ।
এদিকে, দীর্ঘ একমাসের পবিত্র সিয়াম সাধনার পর সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সীমান্ত জেলা শ্রীভূমি জুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রস্তুত পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে। আগামী শনিবার উদযাপিত হতে চলা এই বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পাথারকান্দি ও বাজারিছড়া থানা অধীন কটামনি, আছিমগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়।ইতোমধ্যেই ঈদকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। এলাকার প্রায় পঁচিশটি ঈদগাহ ময়দান এবং বিভিন্ন মহল্লার মসজিদগুলোকে সজ্জিত করা হয়েছে নান্দনিক ও মনোরম সাজে। রঙিন তোরণ, আলোকসজ্জা এবং ঈদের শুভেচ্ছা বার্তায় সেজে উঠেছে প্রতিটি প্রার্থনাস্থল, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।প্রতিবছরের ন্যায় এবারও একমাসের রোজা পালন শেষে রমজানের শেষ প্রান্তে এসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ঈদের দিনের জন্য। ঈদের সকালে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যে এলাকার বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নামাজ শেষে বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।ইতোমধ্যেই কটামনি, ইছারপার, রাধামাধবপুর, ছলামনা, নাগ্রা, মানিকবন্দ, ঝেরঝেরি, উত্তর ঝেরঝেরি, বাজারিছড়া, কালাছড়া, চন্দ্রপুর, ডেঙ্গারবন্দ, লোয়াইরপোয়া, বৈঠাখাল, কাঁঠালতলী, জালালনগর, পাথারকান্দি, হাটখলা, চাঁন্দখিরা, ডেফলআলা, জুড়বাড়ি, কাবাড়িবন্দ, করমপুর, ডেউবাড়ি ও কাসেরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহ ময়দানগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ঈদগাহ ময়দানে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি। পাশাপাশি ভিডিপি কর্মী, বিশেষ পুলিশ টিম এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন রাখা হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। ঈদের পুরো দিন জুড়ে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে কটামনি বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে জমে উঠেছে কেনাকাটার ধুম। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী এবং বিশেষ করে ঈদের মিষ্টান্নের বাহারি পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজার এলাকা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এবার কটামনি বাজারে বসছে ঈদের মেলাও, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বার্তায় পাথারকান্দির কর্মবীর বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।সব মিলিয়ে বলা যায়, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এবারও সীমান্ত জেলার পাথারকান্দি অঞ্চলে উদযাপিত হতে চলেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।



