চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ২,৪৩,৪৮৫ জন ভোটার কমল, জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ

বরাক তরঙ্গ, ১১ ফেব্রুয়ারি : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে প্রকাশিত হলো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। খসড়া তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় ২,৪৩,৪৮৫ জন ভোটার কমেছে, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ০.৯৭ শতাংশ হ্রাস। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪৯,৫৮,১৩৯ জন। গত ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ২,৫২,০১,৬২৪ জন। বুধবার দিসপুরের জনতা ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গয়েল। তিনি বলেন, ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে বিশেষ সংশোধনী (এসআর-২০২৬) কর্মসূচির আওতায় ২২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘরে ঘরে গিয়ে পুনরীক্ষণ অভিযান চালানো হয়। ২৭ ডিসেম্বর সংহত খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ সংশোধনী ২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) ৬১,০৩,১০৩টি পরিবার পরিদর্শন করেন। পুনরীক্ষণ অভিযানে ৪,৭৮,৯৯২ জন মৃত ভোটার, ৫,২৩,৬৮০ জন স্থানান্তরিত ভোটার এবং ৫৩,৬১৯ জন একাধিক নাম থাকা ভোটার চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হওয়া সত্ত্বেও তালিকাভুক্ত নন এমন ৬,২৭,৬৯৬ জন এবং ১৭ বছরোর্ধ্ব সম্ভাব্য ১,৪৬,৩৪২ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দাবি ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ৭,৬০,৫১৩টি আবেদনের মধ্যে ৫,৮৬,১৪৬টি গৃহীত হয়েছে, ১,৪০,৯০৮টি খারিজ হয়েছে এবং ৩৩,৪৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

ফর্ম-৭ এর আওতায় প্রাপ্ত ১২,৯৭,৭৯৬টি আবেদনের মধ্যে ১০,৬৩,৬৪৭টি গৃহীত ও ১,৯০,৬১৩টি খারিজ হয়েছে, ৪৩,৫৩৬টি আবেদন মুলতুবি।

ফর্ম-৮ এর অধীনে প্রাপ্ত ১৫,৩৬,৬৭৪টি আবেদনের মধ্যে ১৩,৪৬,৭২৬টি গৃহীত ও ১,৩২,১৬৭টি খারিজ হয়েছে, ৫৭,৭৮১টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

চূড়ান্ত তালিকায় মোট ২,৪৯,৫৮,১৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ১,২৪,৮২,২১৩ জন পুরুষ, ১,২৪,৭৫,৫৮৩ জন মহিলা এবং ৩৪৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এছাড়া ৬৩,২৬৯ জন সার্ভিস ভোটার, ২,০৩,৭০৯ জন দিব্যাং ভোটার, ১৮–১৯ বছর বয়সী ৫,৭৫,২৫৮ জন এবং ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১,০৪,২৩৮ জন ভোটার রয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে ৫১ নম্বর দলগাঁও বিধানসভা কেন্দ্রে—৩,১৫,২৮৪ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ১১২ নম্বর আমরি কেন্দ্রে—১,০০,০৯৭ জন। সর্বাধিক ৪০২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১ নম্বর মানকাচর কেন্দ্রে এবং সর্বনিম্ন ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২ নম্বর দতমা কেন্দ্রে। কোনও আপত্তি থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে জেলা দণ্ডাধিকারীর কাছে আপিল করা যাবে। প্রয়োজনে ৩০ দিনের মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নিকট দ্বিতীয় আপিল করা যাবে। উচ্ছেদ হয়ে স্থানান্তরিত ব্যক্তিরাও পুরনো ইপিক নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় আগের মতোই ৯২,০৮৭ জন ‘ডি’ ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *