১৬ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসন। দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার অভিযোগে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সইফ আল শামসি। ধৃতদের মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও কনটেন্ট ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছিল।
প্রশাসনের তদন্তে দেখা গেছে, মূলত তিন ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। প্রথমত, বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও শেয়ার করে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছিল। দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো ভিডিও কিংবা বিদেশের পুরোনো বিস্ফোরণের দৃশ্যকে আমিরশাহির ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছিল। তৃতীয়ত, কিছু ব্যক্তি ইরানের সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে তাদের সমর্থনে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রচার করছিল।
প্রশাসনের তরফে অভিযুক্তদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলে রয়েছে ১০ জন, যাদের বিরুদ্ধে আসল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয় নাগরিক।
দ্বিতীয় দলে রয়েছে ৭ জন, যাদের বিরুদ্ধে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
তৃতীয় দলে রয়েছে ৮ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক, যাদের বিরুদ্ধে ইরানকে সমর্থন করে কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইন অনুযায়ী সাইবার অপরাধ ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার সমান।
প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো কাজ—তা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হোক বা অন্য কোনো উপায়ে আতঙ্ক ছড়ানো—কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।



