২২ মার্চ : ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১২ জন যাত্রী। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১০ জন। যাঁদের অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয় শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশের কুমিল্লায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাত ২টা ৫৫ মিনিটে (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী) চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরের দিকে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লেভেল ক্রসিং গেট অতিক্রম করে বাসটি রেললাইনে উঠে পড়লে দ্রুতগামী ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ওই অবস্থাতেই বাসটিকে আধ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুটি শিশু, সাতজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে রেলগেটের লাল সিগন্যাল বাতিটি বন্ধ থাকায় চালক বিপদ বুঝতে পারেননি। ফলে বাসটি রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে এবং মুহূর্তেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে, হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনের দেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের বাকি অংশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেললাইন থেকে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসটি সরানোর কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিগন্যাল বিভ্রাট নাকি চালকের অসতর্কতা, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।




