২ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৩তম সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা তুঙ্গে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতসহ একাধিক প্রভাবশালী দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখনও ১১টি দেশ কোনও চূড়ান্ত জবাব দেয়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৩৩০ জন পর্যবেক্ষকের আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
ঢাকা থেকে পাঠানো আমন্ত্রণের তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স এবং মিশরের মতো দেশগুলো। ভারতের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও বার্তা মেলেনি। ভারত ছাড়াও রোমানিয়া, নাইজেরিয়া এবং মরক্কোর পক্ষ থেকেও কোনো উত্তর আসেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আশাবাদী যে, শেষ মুহূর্তে আরও কিছু দেশ ইতিবাচক সাড়া দেবে।
ইউনূস সরকার এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। ওআইসি (OIC), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েল্থ এবং আটটি মার্কিন সংস্থাসহ ১৬টি দেশ ও ৩২টি সংগঠনের ৩৩০ জন প্রতিনিধি পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিনটি নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র ৪ জন। সেই তুলনায় এবারের সংখ্যাটি অনেক বেশি, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৫০টিরও বেশি দল থেকে দু’হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। ইউনুস দাবি করেছেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বাত্মক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বারবার আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।



