১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার, বড়সড়ো নাশকতার ছক বানচাল পুলিশের

২৬ জানুয়ারি : প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে বড়সড়ো নাশকতার ছক বানচাল করল রাজস্থান পুলিশ। রাজস্থানের নাগৌর জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। উদ্ধারকৃত রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা শক্তিশালী আরডিএক্স (RDX) তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুলেমান খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে নাগৌরের হারসৌর গ্রামে হানা দেয় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মৃদুল কছওয়া জানান, গ্রামের একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১৮৭টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তা ভর্তি ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে, যার মোট পরিমাণ ৯,৫৫০ কেজি। এছাড়াও মিলেছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম, যার মধ্যে ৯ কার্টন ডিটোনেটর, ১৫ বান্ডিল ব্লু ফিউজ তার এবং ১২ কার্টন রেড ফিউজ তার রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সুলেমান ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি ফৌজদারি মামলা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুলেমান দাবি করেছেন, এই বিস্ফোরক মূলত খননকার্যের (Mining) জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এত বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুতের স্বপক্ষে কোনও বৈধ নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও খবর দেওয়া হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এর সঙ্গে কোনও জঙ্গি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

গত নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি। সেই ঘটনার আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকেও বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়েছিল। রাজস্থানের এই ঘটনার সঙ্গে দিল্লির সেই বিস্ফোরণ বা উত্তর ভারতের অন্য কোনও নাশকতামূলক ছকের যোগসূত্র আছে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে যেখানে গোটা দেশ হাই-অ্যালার্টে রয়েছে, সেখানে ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরকের হদিশ পাওয়াকে কেবল ‘বেআইনি খননকার্য’ বলে উড়িয়ে দিতে নারাজ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *