মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মার্চ : ঝেরঝেরি দারুল কোরআন মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য: প্রথম অংশগ্রহণেই চমক, আনন্দে ভাসছে পুরো এলাকা।পাথারকান্দি অঞ্চলের প্রান্তিক ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকা ঝেরঝেরিতে অবস্থিত দারুল কোরআন ঝেরঝেরি কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবার এক অনন্য কৃতিত্বের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং শুরুতেই শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মাদ্রাসার এই অসাধারণ সাফল্য শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, বরং এটি পুরো ঝেরঝেরি এলাকার জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে এমন ফলাফল স্থানীয়দের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে গোটা এলাকা অভিভাবক, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ সকলেই যেন এক আনন্দমুখর পরিবেশে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করছেন।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে উদযাপন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য ইফতার মহফিলের। রমজানের পবিত্র আবহে আয়োজিত এই মাহফিলে অংশ নেন মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিশিষ্ট সমাজসেবী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে আনন্দ, গর্ব এবং কৃতজ্ঞতার আবহ একসঙ্গে মিশে যায়। ইফতার মাহফিল শেষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে মাদ্রাসার সভাপতি বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোট ১০ জন শিক্ষার্থী তানজিম বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং প্রত্যেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ৩ জন শিক্ষার্থী ১০০-এর মধ্যে পূর্ণ ১০০ নম্বর অর্জন করে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত প্রশংসনীয় ফলাফল করে, যেখানে সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৫। এই ফলাফল মাদ্রাসার উচ্চমানের পাঠদান, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার প্রতি আন্তরিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাদ্রাসার অভিজ্ঞ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক মণ্ডলীর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকরা যে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছেন, সেটিই আজকের এই অর্জনের মূল ভিত্তি। পাশাপাশি তিনি এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা, নৈতিক সমর্থন ও দোয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি আরও জানান, পবিত্র রমজান মাস শেষে মাদ্রাসার নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে এবং তা পরিচালিত হবে দারুল উলুম বাশকান্দির নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও জ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই মাদ্রাসার মূল লক্ষ্য।এছাড়াও আগামী ৩০ মার্চ থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক উভয় ব্যবস্থাই থাকছে, যেখানে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ঝেরঝেরি দারুল কোরআন মাদ্রাসা একদিন বৃহত্তর অঞ্চলের একটি শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এই অর্জন শুধু একটি শুরু আগামী দিনে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে এই প্রতিষ্ঠান, এমনটাই বিশ্বাস সবার।



