ভাগায় ডাকাতি ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশকর্মী জখম, অভিযুক্ত পলাতক
রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ মার্চ : ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে গুরুতর জখম হলেন এক পুলিশ কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে ধলাই থানা এলাকার ভাগা বাজারে। জখম পুলিশ কর্মীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকাল আটটায়, যখন একদল ডাকাত প্রকাশ্য দিবালোকে ভাগা বাজারের কাছে মিজোরামের চাম্পাইয়ের বাসিন্দা লাললম জুয়ালার গাড়ি আটকে ১৩ লক্ষ টাকা লুঠ করে পালিয়ে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ডাকাতদের চিনে ফেলেন। ঘটনা পরবর্তী সময়ে, ৫ জনের বিরুদ্ধে ধলাই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালীন, ডাকাত দলের প্রধান অভিযোগকারীর বাড়িতে এসে “কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে”, জবাব চায়। রবিবার বিকেল ৪-৩০ মিনিটে অভিযুক্ত হাতে অস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিন লস্করের ছেলে ইমরান হোসেন লস্করের দোকানে এসে হুমকি দেয়। সে বলে, “টাকাগুলো কি তাজুদ্দিনের, আমি যে টাকাগুলো ডাকাতি করেছি সেগুলো একজন মিজো নাগরিকের। তাতে তাজুদ্দিন বা আপনাদের কী আসে যায়। আমাকে অভিযুক্ত করার পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।”

তাজ উদ্দিন লস্করের পরিবার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। রবিবার সন্ধ্যার পর পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে অভিযানে নামে। পুলিশ ভাগাবাজারের একটি দ্বিতল ভবনে ডাকাত সরদারের অবস্থান নিশ্চিত হয়। তারা ভবন কে চারিদিকে ঘিরে ফেলে। অভিযুক্তকে ধরতে গেলে দ্বিতল ভবনের উপর থেকে নিচে ঝাঁপ দেয় এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সে। তার পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে দ্বিতল ভবনের উপর থেকে ঝাপদেন পুলিশকর্মী ষষ্ঠ অসম পুলিশ ব্যাটালিয়ন সঞ্জয় চৌহান। এতে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে পুলিশকর্মী সঞ্জয় চৌহানকে উদ্ধার করে ধলাই প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে আঘাত গুরুতর হওয়ায় শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগকারীর বাড়িতে এসে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।