হজে শিশুকে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ, নীতি পরিবর্তন সৌদি প্রশাসনের
১১ ফেব্রুয়ারি : চলতি বছরের হজে শিশুকে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করল সৌদি আরব প্রশাসন। হজে প্রচণ্ড ভিড় শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির হয়ে দাঁড়ায়। ঘটতে পারে নানা বিপদ। সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রক। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য এবং হজ চলাকালীন তাদের ক্ষতি এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পাশাপাশি মন্ত্রক জানিয়েছে যে, যাঁরা আগে হজ করেননি তাঁদেরই হজ যাত্রার অনুমতির ক্ষেত্রে আগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২০২৫ সালের হজ মৌসুম। ৪-৬ জুন পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসলামে, যাঁরা শারীরিক এবং আর্থিকভাবে সক্ষম তাঁদের জীবনে অন্তত একবার মক্কায় গিয়ে হজ পালন বাধ্যতামূলক।
সৌদি আরব বার্ষিক হজযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বরাদ্দ থাকে, কারণ অতীতে অ-অনুমোদিত হজযাত্রীদের আগমন তীব্র ভিড়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা এড়াতে, রিয়াদ ঘোষণা করেছে যে, তারা এখন পর্যটন, ব্যবসা এবং পারিবারিক পরিদর্শনের জন্য কেবল একক-প্রবেশ ভিসা দেবে। পূর্ববর্তী এক বছরের মাল্টিপল-প্রবেশ ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করবে।
নীতি পরিবর্তনের ফলে ১৪টি দেশের ভ্রমণকারীরা প্রভাবিত হবেন, যার মধ্যে আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, জর্ডান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সুদান, তিউনিসিয়া এবং ইয়েমেনের ভ্রমণকারীরাও অন্তর্ভুক্ত।
ইতিমধ্যে, সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দা-সহ দেশীয় হজযাত্রীদের জন্য নিবন্ধন নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে খোলা হয়েছে, যা হজ নিবন্ধনের জন্য অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এতে আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যের বিবরণ আপডেট করতে হবে, সঙ্গী যোগ করতে হবে এবং প্রয়োজনে মাহরাম (পুরুষ অভিভাবক) ছাড়ের অনুরোধ জমা দিতে হবে। নথিভুক্ত হওয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে, হজ প্যাকেজ বুকিং মিললে আবেদনকারীদের অবহিত করা হবে।
ছবি প্রতীকী।

